ভোলায় দুইটি হত্যাকা-ের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও পথসভা

প্রচ্ছদ » অপরাধ » ভোলায় দুইটি হত্যাকা-ের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও পথসভা
বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪



---

স্টাফ রিপোর্টার ॥

ভোলায় মা রওশন আরা’র হত্যা ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও পথসভা করেছে মেয়ে-ছেলেসহ পরিবারের স্বজনরা।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরাম (এইচ.আর.ডি.এফ) এর আয়োজনে এই মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন ও পথসভায় ভোলার লালমোহনে রওশন আরা হত্যার রহস্য উদঘাটন ও দৌলতখানে কলেজ শিক্ষার্থী রাব্বি হত্যার বিচারসহ সকল হত্যাকা-ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিখোঁজ হন ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ফজলে করিম মেম্বার বাড়ির শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী রওশনা আরা। নিখোঁজের ৬ দিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি বাড়ির সেফটি ট্যাংকের মধ্যে থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

এরপর ওইদিন রাতেই খুন হওয়া বৃদ্ধার ছেলে শিহাব উদ্দিন লালমোহন থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনার কোনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেননি।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে মায়ের খুনিদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি চেয়ে মেয়ে সাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার বৃদ্ধা মাকে কে বা কারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তা গত একবছরেও পুলিশ উদঘাটন করতে পারেনি। তাহলে কি আমার মায়ের খুনিরা পার পেয়ে যাবে? আমি কি আমার মায়ের খুনিদের দেখতে পাব না?

কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, ‘আমি যদি আমার মায়ের খুনিদের দেখতে না পাই, সঠিক বিচার না পাই, তাহলে আমি মনে করব, এই দেশে কোনো বিচার নাই’।

রওশন আরা’র মেয়ে রুনু বেগম বলেন, ‘আমার মা একজন ভালো মানুষ ছিলেন। কে বা কারা কি কারণে আমার মাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সেফটি ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রেখেছে, তা আজও আমরা জানতে পারছি না। আমার মায়ের সঙ্গে কারো কোনো বিবাদ নেই, তাহলে আমার মাকে হত্যা করল কারা?

হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরামের ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, রওশন আরা হত্যার ঘটনা একবছর অতিবাহিত হলেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো এই হত্যার কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারছে না। এর কারণ কি? আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এই হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন করতে না পারে, তাহলে তা পারবে কে?

এসময় তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, রওশন আরা হত্যার রহস্য উদঘাটন ও কলেজ শিক্ষার্থী রাব্বি হত্যার ঘটনায় জড়িত খুনিসহ দেশের সকল হত্যাকা-ের বিচার ও এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

বক্তাগণ বলেন, উঠতি বয়সের ছেলেরা কিশোর গ্যাং এ রূপান্তরিত হয়েছে। এ রূপান্তর হয়েছে অসুস্থ রাজনীতির কারণে। তারা বলেন, অসৎ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এদেরকে প্রশ্রয় দেয় বলেই এরা হত্যাকান্ডের মত জঘন্য কাজে জড়িয়ে পড়ছে। বক্তাগণ কিশোর গ্যাং এর প্রশ্রয়দাতা এবং কলেজ ছাত্র রাব্বি হত্যাকান্ড যারা ধামাচাপা দিতে চায় তাদেরকে এবং হত্যাকারীদেরকে চিহ্নিত করে সবাইকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

মানববন্ধন ও পথসভায় দৈনিক আজকের ভোলা সম্পাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ শওকাত হোসেন, জাসদ এর জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, প্রভাষক কামরুল ইসলাম, প্রভাষক মনিরুল ইসলাম, নিহতের ছেলে শিহাব উদ্দিন, মেয়ে রুনু বেগম, রিনা বেগম, সাজেদা বেগম, সালমা বেগম, বাবা শাহজাহান, রওশন আরা’র ভাই জসিম উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, বোন মাসুদা বেগম, আয়শা, ফাতেমা, হাছিনা ও জীবননেছাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন ও পথসভা শেষে নিহতের পরিবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

রওশন আরা’র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কাজল বলেন, রওশন আরা হত্যা ঘটনার পর নিহতের ছেলে শিহাব উদ্দিন বাদী হয়ে লালমোহন থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের হওয়ার দেড়মাস পর তিনি তদন্তের দায়িত্ব পান। তদন্তকালে এক নারীসহ পাঁচ ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেন। তাদের মধ্যে লালমোহন উপজেলা যুবদল সভাপতি কবির হাওলাদারও ছিলেন। বর্তমানে তাঁরা সবাই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন। আসামিরা কেউই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। তাদের দাবি ছিল, রওশন আরা হত্যাকা-ের সঙ্গে তাঁরা কেউই জড়িত নয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, রওশন আরা হত্যার ঘটনাটি খুবই আলোচিত একটি ঘটনা। জেলা পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামানের নির্দেশে গেল কয়েকদিন আগে এই হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় ডিবির ইন্সপেক্টর মেজবাহ উদ্দিনকে। পুলিশ আশা করছে, খুব দ্রুতই এই হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

ভোলা পুলিশ সুপার মো. মাহিদুজ্জামান জানান, কিছু কিছু হত্যার রহস্য উদঘাটনে বিলম্ব হয়। যাঁর নানান কারণ থাকে। রওশন আরাসহ ভোলায় হত্যা হওয়া সকল ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামিদেরকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।

পথসভা শেষে বিচার প্রার্থীদের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামানের হাতে হস্তান্তর করেন মানবাধিকার কর্মী মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী। এ সময় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সাথে ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২:৪৬:৪৮   ১৪৮ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অপরাধ’র আরও খবর


ঘুষ ছাড়া কাজ হয়না ভোলার বিএমইটি অফিসে॥ প্রতিদিন ঘুষের আয় প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা!!
ভোলায় ফিল্মি স্টাইলা অপহরণ ॥ কতিপর উদ্ধার
ফুঁক দিয়েই সব সমস্যার সমাধান করেন ফরিদ!
প্রেমিকের সঙ্গে ‘বিয়ে’ রফাদফায় এসে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ধরা তরুণী, অতঃপর…
ভোলায় যৌতুকের মামলা দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলো স্বামী ॥ শিশু সন্তান নিয়ে দুশ্চিতায় হাফছা
ভোলায় যুবকের রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
টাকা নিয়ে প্রতারণা, সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার
মনপুরায় খাল থেকে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার
মনপুরায় ব্যবসায়ীর দোকান থেকে লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি
ভোলায় সরকারী বন্ধের দিনে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার ॥ চলছে বিভাগীয় তদন্ত



আর্কাইভ