ভোলায় যৌতুকের মামলা দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলো স্বামী ॥ শিশু সন্তান নিয়ে দুশ্চিতায় হাফছা

প্রচ্ছদ » অপরাধ » ভোলায় যৌতুকের মামলা দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলো স্বামী ॥ শিশু সন্তান নিয়ে দুশ্চিতায় হাফছা
সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪



---

স্টাফ রিপোর্টার ॥

ভোলা বাপ্তা ইউনিয়নের উত্তর পশ্চিম চরনোয়াবাদ ৯নং ওয়ার্ডের প্রতারক বন্ড হুজুর মিজানুর রহমান যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন। মোঃ আবুল কাশেমের বড় ছেলে প্রতারক মিজানুর রহমান (মিজানুর রহমান) এর আগেও দুইটা বিয়ের খবর গোপন রেখে তৃতীয় বারের মত বিয়ে করেন উম্মে হাফছাকে। বিয়ের পর কিছুদিন সুখের সংসার চললেও এরপর হাফছার জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। যৌতুকের জন্য হাফছার উপর শুরু হয় নির্যাতন। বাপের বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকা এনে দেওয়া রেহাই হয়নি হাফছার। আরও যৌতুকের দাবীতে শ্বশুর বাড়ির লোকজন হাফসার উপর নির্যাতন চালাতো। নির্যাতনের শিকার হয়ে হাফছা একাধিকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। রবিবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন, ভুক্তভোগী উম্মে হাফছাসহ তার পরিবার।

সাংবাদিকদেরকে উম্মে হাফছা বলেন, ২৬/০৯/২০২২ইং তারিখে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক আমাদের বিবাহ হয়। বিবাহের পর ২ থেকে ৩ মাস সুখে শান্তিতে কাটে আমার সুখের সংসার। প্রথমে সে ধার স্বরূপ টাকা নিতে থাকে। এভাবে নিতে নিতে সে ৭০,০০০/- (সত্তর হাজার) টাকা ধার নেয়। ধারের টাকা ফেরত চাইলে সে যৌতুক হিসাবে আরও ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা দাবি করে এবং এই টাকার জন্য আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। সুখের কথা চিন্তা করে আমার পিতা মোঃ মহিউদ্দিন ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা দেয়। আমি অন্তঃসত্তা থাকাকালীন আমাকে বাবার বাড়ি রেখে আসে স্বামী মিজানুর রহমান। সে আমার কোন খোঁজ খবর নেয় না।

---

এ বিষয় নিয়ে আমরা চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের মাধ্যমে মিমাংসা করার চেষ্টা করি। কিন্তু চেয়ারম্যানের আদেশকে অমান্য করে। চেয়ারম্যানের নির্দেশে লিগ্যাল এইডে একটি দরখাস্ত জমা দেই। সে লিগ্যাল এইডের আদেশকেও অমান্য করে চলে আসে। পরবর্তীতে সে আরো যৌতুক দাবি করে যৌতুক না দিলে আমাকে তালাকের হুমকি প্রদান করে। বাধ্য হয়ে আমরা ২৫/০১/২০২৪ইং তারিখে একটি যৌতুক মামলা দায়ের করি। মামলা সি.আর নং-৫০/২০২৪ইং ভোলা। মামলার পরবর্তী তারিখে সে হাজির হয় এবং আমাকে স্ত্রীর প্রাপ্য মর্যাদা দিবে বলে নন জুডিশিয়াল ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত ভাবে স্বাক্ষর করে নিয়ে আসে।

২১/০৩/২০২৪ইং তারিখে আমি আমার স্বামী শ্বশুর বাড়িতে রওনা দেই। আমাকে মোবাইলে টাকা লোড করার অৎুহাত দিয়ে ফেলে চলে যায়। আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সে না আসায় শ্বশুর বাড়িতে যাই। শ্বশুর বাড়িতে গেলে মামলা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামীসহ তার পরিবার যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী, শ্বাশুরী, দেবর এবং সতীন মিলে আমাকে বেধড়ক মারধর করেন তারা। সকলে আমার ডাক চিৎকার শুনে আশে পাশের লোকজন আসে। এবং আমার বাবার বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে আমার অভিভাবক তাদের কাছ থেকে আমাকে উদ্ধার করে এবং ভোলা সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। আমি ৩ দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে থানায় হাজির হই।

আত্মীয় স্বজন পরামর্শে আমি ২৩/০৩/২০২৪ইং তারিখে কোর্টে মামলা দায়ের করি। মামলা চলমান অবস্থায় সে আমাকে নোটিশ বিহীন একসাথে তিন তালাক প্রদান করে ০৯/০৪/২০২৪ইং তারিখ উল্লেখ্য করে।

আমি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও স্যারদের কাছে এ ব্যাপারে সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৯:১১   ১৩১ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অপরাধ’র আরও খবর


পশ্চিম ইলিশায় ৩ ঘরে দূদর্শ চুরি
ভোলায় মেঘনা নদী থেকে পাঙ্গাস মাছের অবৈধ পোনা শিকারের ৫টি চাই ধ্বংস
ভোলায় দুই মাদক কারবারীকে সাজা
তজুমদ্দিনে ঢাকাগামী লঞ্চ থেকে ৩শ কেজি পাঙ্গাসের পোনা আটক
ওমরাহ পাঠানোর নামে হাজী কামালের প্রতারণা
চরফ্যাশনে ভূমিদস্যু মুছার নেতৃত্বে নারী ও শিশুর ওপর সন্ত্রাসী হামলা
লালমোহনে জমি দখলের জন্য মালিকের উপর হামলার অভিযোগ
দালালদের খপ্পড়ে পড়ে নিঃস্ব জীবন ॥ চরফ্যাশন উপজেলার পাচঁ প্রবাসীর আর্তনাদ!
সৎ মায়ের বিরুদ্ধে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
চরফ্যাশনে ব্যবসায়ীকে হাত পা বেধেঁ মারধরের অভিযোগ



আর্কাইভ