রাজনৈতিক সংলাপের তাগিদ : সমঝোতার বিকল্প নেই

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » রাজনৈতিক সংলাপের তাগিদ : সমঝোতার বিকল্প নেই
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৩



জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে সংলাপের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল থেকে সংলাপের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল। সংলাপের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি শর্ত প্রত্যাহার করলে সংলাপের বিষয়টি ভেবে দেখা হবে। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ঘোষণা দিলে সংলাপে বসা যেতে পারে। আমরা মনে করি, যে কোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ বা আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। আর আলোচনায় বসতে হবে নিঃশর্তভাবে। আগাম শর্ত আরোপ করে সংলাপ হয় না। কারণ সংলাপে বসার উদ্দেশ্যই হলো সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। রাজনীতিতে একগুঁয়ে মনোভাবের পরিণতি কী হয়, তার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। কাজেই নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে দেশের রাজনীতি যেভাবে দিনদিন উত্তপ্ত হচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একটি সংলাপ হওয়া প্রয়োজন এবং তা যত দ্রুত হয় ততই মঙ্গল। কারণ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র তিন মাস। আগামী মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

তবে সংলাপ বা আলোচনা যাই হোক, তা হতে হবে অর্থবহ। অতীতে দেখা গেছে, জাতিসংঘের মধ্যস্থতাসহ বিভিন্নভাবে যেসব রাজনৈতিক সংলাপ হয়েছে, তা কোনো ফল বয়ে আনেনি। এর কারণ, সংলাপে অংশ নেওয়া পক্ষগুলোর যার যার প্রস্তাবে অটল থাকা। কাজেই ‘বিচার মানি, কিন্তু তালগাছটি আমার’-এমন মনোভাব নিয়ে সংলাপে বসে লাভ নেই। সংলাপে বসতে হবে সত্যিকারের আন্তরিকতা নিয়ে, যাতে এক পক্ষের যৌক্তিক প্রস্তাব অন্য পক্ষ মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে। তা না হলে সংলাপ হবে অর্থহীন। আর তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নির্বাচন সামনে রেখে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, যা দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে না। দেশের অর্থনীতি সংকটে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। অথচ রাজনৈতিক দলগুলোর পালটাপালটি কর্মসূচি এবং বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণকেই উপযুক্ত উপায় বলে মনে করি আমরা। বস্তুত পর¯পরের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো যদি আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা যায় এবং সেখানে সমাধানের পথ খোঁজা হয়, তাহলে দেশের রাজনীতিতে সংঘাত-সংঘর্ষ ও নৈরাজ্য হ্রাস পাবে। এ বিষয়ে সব দলের রাজনীতিকদের শুভবুদ্ধির পরিচয় দিতে হবে। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে বৈরী স¤পর্ক চলছে, তা দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। দেশে সমঝোতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অবস্থার অবসান ঘটবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক দলগুলো যদি প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার রাজনীতি পরিহার করে পরস্পরের প্রতি সহনশীল হয়, তাহলে দেশের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৭:১৬   ৭১৯ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

সম্পাদকীয়’র আরও খবর


গ্যাস কূপ খননের উদ্যোগ: দেশীয় কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়ানো দরকার
দাদনের খপ্পরে জেলে সম্প্রদায় : ব্যাংকগুলো হতে পারে বিকল্প
এত গ্যাস! এমন সংকটেও অনুসন্ধান ও উত্তোলন হচ্ছে না কেন?
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ: স্বাধীন মতপ্রকাশকে প্রাধান্য দিতে হবে
সাইয়েদুস শাবাব: ঈমাম হোসাইন (রা:) এর শাহাদাতের তাৎপর্য ও শিক্ষা
ডলার বাজারে অব্যাহত অস্থিরতা
ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে প্রতারণা
রাজনৈতিক সংলাপের তাগিদ : সমঝোতার বিকল্প নেই
বাজারে কারসাজি



আর্কাইভ