নৌযানে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নিন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় » নৌযানে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নিন
বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩



---

সারাদেশে বিভিন্ন সময় নৌপথে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণাঞ্চলের কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদীসহ বিভিন্ন নৌ-রুটে গত ১৮ মাসে আগুনে পুড়ে মারা গেছে অর্ধশতাধিক নৌযাত্রী। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ২০২২ সালে লঞ্চে আগুন লেগে মারা যান ৪১ জন। ২০২৩ সালের ১১ মে কীর্তনখোলা নদীতে তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটে ৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ৫২ দিন পর আবারো সুগন্ধা নদীতে তেলবাহী জাহাজের অগ্নিকান্ডে চারজন মারা গেছেন।

নৌযানে বিস্ফোরণ রোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতরগুলোর তৎপরতা, সক্ষমতা ও পদ্ধতিগত প্রয়োগ নেই বলেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তৎপরতা না বাড়ানো হলে এটা রোধ করা যাবে না। নৌপথে চলন্ত অথবা নোঙর করে রাখা নৌযানে বিস্ফোরণ ঘটে মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে কেন হচ্ছে? এ প্রশ্ন আমরা করতে চাই। ফায়ার সার্ভিস বলেছে, জাহাজগুলো কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে মনিটরিং করে না। নিয়ম আছে ইঞ্জিনরুমের কার্বন মনোক্সাইড প্রতিদিন বাইরে নিঃসরণ করে বিশুদ্ধ বাতাস প্রবেশ করানোর কিন্তু জাহাজের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সে নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করেন না। কখনো তিন দিন চার দিন ইঞ্জিনরুম বন্ধ রাখা হয়। তখন আগুন জ্বালালেই বিস্ফোরণ ঘটে।

অক্সিজেন, জ্বালানি ও আগুনের উৎস- এ তিনটির সমন্বয়ে বিস্ফোরণ ঘটে থাকে। অভিযান-লঞ্চ, এমটি এবাদী-১ ও সাগর নন্দিনী-২ জাহাজের অগ্নিকান্ডে সেটাই ঘটেছে বলে পর্যবেক্ষকদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

নৌযানগুলোর ইঞ্জিনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। অন্যদেশের মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজ কিনে এ দেশে চালানো হয়। ইঞ্জিনগুলোর লাইফটাইম শেষ হওয়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যেসব নৌযান অগ্নিকান্ডের শিকার হচ্ছে সেগুলোর কোনো না কোনো ত্রুটি তদন্তে খুঁজে পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ত্রুটি শনাক্ত হলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অনেক সময় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় কিন্তু তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বা তাদের সুপারিশ আর জনসম্মুখে আসে না। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও সেটা আর আলোর মুখ দেখে না।

নির্ধারিত সময় পরপর নৌযানগুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং নৌযানের ইঞ্জিন, কভার, ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যার, ফিটনেস এবং চলাচলে সঠিক নিয়ম মেনে চলে কিনা সেটা তদারকির দায়িত্ব শিপিং কর্পোরেশনের; কিন্তু তাদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো নয়। নৌপথে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে দেশে আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। নৌযানে বিস্ফোরণ ঠেকাতে হলে শুধু জাহাজ কর্তৃপক্ষ নয়, শিপিং কর্পোরেশনকেও কঠোরভাবে নজরদারি বাড়াতে হবে। আর যারা আইন প্রয়োগের দায়িত্বে নিয়োজিত হবেন, তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

জাহাজে নিয়ম না মেনে আগুনের ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে, ইঞ্জিনরুম নিরাপদ রাখতে শিপিং কর্পোরেশনের দেয়া নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে। অন্যথায় নৌযানের অগ্নিকান্ড দুর্ঘটনা থামানো দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশ সময়: ০:১৮:৫৯   ২৫৩ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

সম্পাদকীয়’র আরও খবর


ডলার বাজারে অব্যাহত অস্থিরতা
ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে প্রতারণা
রাজনৈতিক সংলাপের তাগিদ : সমঝোতার বিকল্প নেই
বাজারে কারসাজি
নৌ দুর্ঘটনা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করুন
চিকিৎসক ধর্মঘট: রোগীদের জিম্মি করে কর্মসূচি অনৈতিক
নৌযানে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নিন
ফিটনেসহীন নৌযান: ভোলা নৌপথে দ্রুত ব্যবস্থা নিন
চরফ্যাশনের ঢালচর বনের ঢাল কারা?
বাজারে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস : সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব দৃশ্যমান হচ্ছে না



আর্কাইভ