বিচ্ছিন্ন চরবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি

প্রচ্ছদ » খুলনা » বিচ্ছিন্ন চরবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি
রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪



---

বিশেষ প্রতিনিধি ॥

ভোলার লালমোহন উপজেলার বিচ্ছিন্ন এক জনপদ চরকচুয়াখালী। উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর বুকে প্রায় ৯০ বছর আগে জেঁগে ওঠে চরটি। মাছ ধরা ট্রলার বা খেয়াই এই চরে যাওয়া-আসার একমাত্র বাহন।

চরটিতে বর্তমানে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জনপদ হওয়ায় চর কচুয়াখালীতে দিনের পর দিন ঘটছে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-। বাল্যবিয়ে, জুয়া, মাদক, চুরি, ডাকাতিসহ প্রতিনিয়ত দুর্গম এ চরে ঘটেই চলছে সমাজিক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে বিচ্ছিন্ন এই জনপদে স্থায়ী একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি চরের বাসিন্দাদের।

চর কচুয়াখালীর প্রবীণ বাসিন্দা মো. আলমগীর মাতাব্বর জানান, ৬০ সালের দিকে এই চরে প্রথমে চাষাবাদের জন্য আসি। তখন টং বানিয়ে চরে থাকতাম। ধীরে ধীরে চরের প্রতি মায়া বাড়তে থাকে। যার জন্য কয়েক বছরের মাথায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চর কচুয়াখালীতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করি। তখন চরের অনেক বসতঘরে ডাকাতি হতো। ডাকাত দল নৌপথে ট্রলার নিয়ে এসে ঘরের চাল, ডাল থেকে শুরু করে রবিশস্যসহ জামা-কাপড়ও নিয়ে যেতো। ২০০১ সালে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ আমার ঘরেও হানা দেয় ডাকাত দল। ওই ডাকাত দল তখন আমার ঘরের সবকিছু নিয়ে যায়। ঘর ডাকাতি হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিই চরে না থাকার। তখন চরের অন্যান্য মানুষ এসে আমাকে চর না ছাড়তে অনুরোধ করেন। যার জন্য তখন থেকে একন অবধি এই চরেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাস করছি।

বিচ্ছিন্ন চর কচুয়াখালীর সিরাজ পাটওয়ারি, আবুল কালাম, আবু তাহের ও তরিকুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙনের কারণে চরে এখন অনেক ভালো ভালো পরিবার এসে বসবাস করছেন। যার ফলে চরে বেড়েছে বসতি। একইসঙ্গে বেড়েছে অপরাধমূলক কর্মকা-ও। চরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন তৎপরতা না থাকায় চুরি, ডাকাতি, জোরপূর্বক জমি দখল, অন্যায়-অত্যাচার, বাল্যবিয়ে, মাদক ও জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটেই চলছে।

তারা আরো বলেন, এছাড়া এই চরে ব্যাপক কৃষি ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে। চাষাবাদ করে প্রতি বছর ভালো ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। এ কারণে দুষ্টুলোকজন চরের বিভিন্ন এলাকায় ঘাপটি মেরে থাকে। তারা সুযোগ পেলেই চরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। এছাড়া অপরাধীরা অপরাধ করলেও থানার অবস্থান দূরে হওয়ায় সেখানে অভিযোগ দায়ের করতে করতে অপরাধীরা চর ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাই চরের বাসিন্দাদের ন্যায় বিচার পাওয়াসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত বিচ্ছিন্ন এই চর কচুয়াখালীতে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন খুবই জরুরি। চরে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন হলে অপরাধীরা ভয়ে থাকবেন, যার ফলে চরে শান্তির সু-বাতাস বইবে।

লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বাবুল আকতার জানান, ওই চরটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় অবস্থিত। সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি সত্যিই প্রয়োজন। তবে এ জন্য ওই চরের বাসিন্দাদের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করতে হবে। তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ওই চরে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগে নেবেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৯:০৯   ১৪৫ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

খুলনা’র আরও খবর


বিচ্ছিন্ন চরবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি



আর্কাইভ