
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫০ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একাডেমিক ভবনের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ছাদ ঢালাইয়ে এনালক সেন্টারিং এবং নি¤œমানের ও ময়লাযুক্ত পাথর ব্যবহারের অভিযোগে নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ভোলার কার্যাদেশের তথ্য অনুযায়ী, কাজটি পেয়েছে ভোলা সদর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. খালিদ হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি লালমোহনের হাজী জুলফিকার মিয়ার কাছে দিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তার লোকজনই উপ-ঠিকাদার হিসেবে নির্মাণকাজ করছেন বলে জানা গেছে।
প্রকল্পের আওতায় চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পয়োনিষ্কাশন, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতায়নের কাজ রয়েছে। কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে ৫৪০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্মাণকাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ে ময়লাযুক্ত পাথর ব্যবহারের পাশাপাশি এনালক সেন্টারিং ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন নির্মাণে নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি মান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চুক্তিপত্র অনুযায়ী, অনুমোদিত নকশা, কারিগরি বিবরণী ও চুক্তির শর্ত মেনে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কথা। স্থানীয়দের দাবি, ঢালাইয়ে ব্যবহৃত পাথরসহ সব নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা এবং কাজের গুণগত মান যাচাই করা হোক।
মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, আমরা শিক্ষক মানুষ, নিয়ম-অনিয়ম বুঝি না। ঠিকাদারের লোকজন সেন্টারিংয়ে কাঠ ব্যবহার করছে। আমরা চাই, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কাজটি করা হোক।
সাব ঠিকাদার হাজী জুলফিকার মিয়া জানান, সরকারি নিয়মের মধ্যে থেকে আমরা কাজ করছি। কাজ দেখার জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রয়েছে। তারা যেভাবে ইস্টিমেট দিবে সেভাবে কাজ স¤পন্ন করবো।
ভোলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, পাথরের ঢালাইয়ের কাজে এনালক সেন্টারিং ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। মোহাম্মদ ভেলা মাদ্রাসার ভবন নির্মাণকাজে এনালক সেন্টারিং ব্যবহার হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাথরসহ অন্যান্য অনিয়মের বিষয়েও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্মাণকাজে নিুমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যতে ভবনটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তারা দ্রুত নির্মাণকাজ পরিদর্শন, নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ০:০৪:০৯ ৬৩ বার পঠিত