
বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি ॥
স্বামীর অধিকার ও পাঁচ মাস বয়সী সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে ভোলায় মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বৈদ্যরপোল এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পণ্য পরিবহনেও বিঘœ ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী কিশোরী সাদিয়া আক্তার (১৬) অভিযোগ করেন, শাহরিয়ার হোসেন মহিন নামে এক যুবকের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দেড় বছর আগে স্কুল থেকে ফেরার পথে তাকে বাড়িতে নিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর পর ধর্ষণ করা হয়। পরে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাদিয়ার দাবি, পরে মহিন তাকে বিয়ে না করে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পর ভোলার এক আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কাবিননামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গোপন করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার পাঁচ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা এবং স্বামীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়েছি।’
সাদিয়ার ভাই হেলালউদ্দিন রিজু বলেন, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও মহিনের পরিবার তার বোনকে মেনে নেয়নি। পরে গত বছরের ডিসেম্বরে ভোলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। মামলায় মহিন ও তার মা আফরোজা বেগমকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা সরকারি চাকরিজীবী ও প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হলে নিরাপত্তা চেয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘একজন ১৬ বছরের কিশোরীর সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। তার সন্তান বাবার পরিচয় পাচ্ছে না। কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামতে হয়েছে।’
দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাব আলী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। মামলা ও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাউসার বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ সময়: ১:০১:১৮ ৯৬ বার পঠিত