
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে একটি স্কুলের খেলার মাঠ সম্প্রসারণের জন্য কেনা জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদার ও তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্য রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘আব্দুল হাকিম বাঘা আদর্শ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সম্প্রসারণের জন্য হালিমা খাতুন নামে এক নারীর কাছ থেকে চার শতাংশ জমি কেনা হয় বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। সম্প্রতি ওই জমির মালিকানা দাবি করে স্থানীয় মোশারফ গং সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে জমির কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসার নির্দেশ দেয় এবং বিরোধপূর্ণ জায়গায় কাজ বন্ধ রাখতে বলে। তবে পরবর্তীতে মোশারফ গং ওই জমি নিজেদের দাবি করে পুনরায় কাজ চালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এমনকি জায়গা ছেড়ে না দিলে স্কুলের ইট নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এ বিরোধ মীমাংসার জন্য শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্কুলের সভাপতি মানিক বাঘার উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষ নিজেদের জমির মালিকানা দাবি করলে একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন সিকদারের অভিযোগ, সালিশের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ হলে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় মানিক বাঘার নেতৃত্বে হিরন বাঘা, রাসেল বাঘা, রাকিব বাঘা ওরফে রকি, তাহিম বাঘা, ফাহিম বাঘা, মোশারফ ফরাজি, জসিম ফরাজি, মোতাছিন ফরাজি, মোসেউদ্দিন আমজাদ ফরাজি, সামছু ফরাজি ও নুরুদ্দিন বাঘাসহ ২০ থেকে ২৫ জন তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, হামলায় তিনি নিজেসহ তাঁর পাঁচ ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, এডভোকেট খায়ের উদ্দিন সিকদার, নুরুদ্দিন সিকদার ওয়াসিম, নাসির উদ্দিন নাগর সিকদার, জসিম উদ্দিন সিকদার ও নিজাম উদ্দিন দুলাল সিকদার।
খায়ের উদ্দিন সিকদার বলেন, পুরো ঘটনার মাস্টারমাইন্ড মানিক বাঘা। তার পরিকল্পনায় তার ছেলে হিরন বাঘাসহ অন্যরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোশারফ। তিনি বলেন, তারা জোর করে আমাদের জমি ও পরিবারের কবরের ওপর স্কুলঘর নির্মাণ করেছে। এখন স্কুলের মাঠের নামে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে। আমরা এর প্রতিবাদ করায় তারা উত্তেজিত হয়ে উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে হিরন বাঘাসহ আমাদের দুজন গুরুতর আহত হয়ে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমরা হামলা ও জমি দখলের সুষ্ঠু বিচার চাই।
অন্যদিকে স্কুলের সভাপতি মানিক বাঘা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দুই পক্ষকে নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য আমি সালিশে বসেছিলাম। কিন্তু উভয় পক্ষ নিজেদের জমি দাবি করে একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় আমার বা আমার পরিবারের কোনো হাত নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, পশ্চিম ইলিশা স্কুলের খেলার মাঠের জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর আমরা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হাকিম বাঘা আদর্শ স্কুলে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:০১:৩৪ ১৫৪ বার পঠিত