
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার তজুমদ্দিনে পূর্ব শত্রুতার জেরে বাবুল (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে চাইনিজ ইলেকট্রিক শক গান ও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২:৩০ মিনিটে উপজেলার গালকপুর ৩নম্বর ওয়ার্ডের ‘মুচি বাড়ির কোনা’ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী বাবুল জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাঁর ছেলে নুরুদ্দিন স্থানীয় মুখলেছের দোকানে গেলে গফুরসহ তার ক্যাডার বাহিনী তাকে ইলেকট্রিক শক গান দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। ছেলে ফোন করলে বাবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসেন। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাবুল বাসা থেকে বের হয়ে মুচি বাড়ির কোণায় পৌঁছালে গফুর ও তার ভাই মিজানসহ একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর হামলা চালায়। পিছন থেকে মিজান তাকে চেপে ধরে এবং গফুর তার কাছে থাকা চাইনিজ শক গান দিয়ে বাবুলের বাম কাঁধে প্রচন্ড বৈদ্যুতিক শক দেয়।
এরপর হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মাথা ফাটিয়ে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। তিনি মারা গেছেন ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তজুমদ্দিন হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী জোছনা বেগম বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর: ২১-২৬)। তবে মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী বাবুল ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, মামলা তুলে না নিলে ছেলে-মেয়েদের মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তা হীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমান ও রিপনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, গফুর, জিয়াউর রহমান, আলম ও জামাল এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তারা একাধিকবার জেল খেটেছে। কিছুদিন আগেও ৩-৪ দিন জেল খেটে বের হয়ে এসে তারা চাইনিজ শক গান নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। পথচারীদের শক দিয়ে অচেতন করে টাকা-পয়সা ছিনতাই করা তাদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় মুরুব্বিরা তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ।
হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত গফুর, আলম ও জামাল চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলেন, “মামলা হয়েছে শুনেছি, কিন্তু মামলা আমাদের কাছে কোনো বিষয় না। জেল-হাজত আমাদের কাছে ঘরের মতো। জেল খাটার কারণে বিএনপি থেকেও আমাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। মামলা করে এলাকায় তো আসতে হবে, এলাকায় আসলে তখন দেখে নেওয়া যাবে।”
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “বাবুল নামের এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৭:৫৮ ৬৪ বার পঠিত