
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিনে ৭ বছরের শিশু মোঃ ইসমাইল হত্যাকান্ডের চাঞ্চল্যকর ক্লু উদঘাটন করেছে পুলিশ। পূর্বশত্রুতা ও পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মোঃ রোকন (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া এলাকা থেকে শিশু ইসমাইল নিখোঁজ হয়। শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে তার মা বোরহানউদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মুসলিমপাড়া এলাকায় জনৈক মোঃ রফিকের বাড়ির পশ্চিম পাশের খালের পানিতে একটি বস্তা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু ইসমাইলের লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা আকবর হোসেন (৩০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫৫, তারিখ: ২২-০৯-২০২৬; ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড)।
ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় ভোলা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)-এর দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)-এর তত্ত্বাবধানে বোরহানউদ্দিন থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-র একাধিক টিম সমন্বিতভাবে অভিযানে নামে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে পুলিশ পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের নান্নুর ছেলে মোঃ রোকন (২২)-কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত রোকন শিশু ইসমাইলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, ইসমাইলের পরিবারের সাথে পূর্বশত্রুতা এবং পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে আক্রোশ থেকে শিশুটিকে সে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকা-ের মূল রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ ও ডিবি টিমের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ে আসামিকে আইনের আওতায় আনায় জেলা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করছেন সচেতন এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ সময়: ১:১৬:৪৩ ৭১ বার পঠিত