ভোলায় নদীর পাড় ধসে নিখোঁজ রাকিবের লাশ ৪০ ঘণ্টা পর শনাক্ত, আমজাদকে উদ্ধারে অভিযান

প্রচ্ছদ » জেলা » ভোলায় নদীর পাড় ধসে নিখোঁজ রাকিবের লাশ ৪০ ঘণ্টা পর শনাক্ত, আমজাদকে উদ্ধারে অভিযান
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬



---

আদিল হোসেন তপু ॥

ভোলার মেঘনা নদীতে নদীর পাড় ধসে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর রাকিব (১৮) নামের এক যুবকের লাশ নোয়াখালীর রামগতি উপজেলার একটি চর থেকে শনাক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় এক জেলে লাশটি দেখতে পেয়ে শিবপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মনজুকে খবর দেন। পরে লাশের ছবি দেখে রাকিবের বাবা বাবুল ও নদী থেকে উদ্ধার হওয়া তার বন্ধু ফাহিম লাশটি শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে রাকিবের স্বজনরা স্থানীয়ভাবে নৌকা নিয়ে রামগতির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন লাশটি উদ্ধারের জন্য।

এদিকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পার হলেও এখনো সন্ধান মেলেনি বিজিবি সদস্য মো. আমজাদ (২৮)-এর। তাকে উদ্ধারে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো মেঘনা নদীতে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় বারবার ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। এতে আমজাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।

গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল মাছঘাট সংলগ্ন বালুরমাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ আমজাদ ভোলা শহরের ভদ্রপাড়া এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি বিজিবিতে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর পাঁচ বন্ধু মেঘনা নদীর তীরে বালুভর্তি জিওব্যাগের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ জিওব্যাগসহ নদীর পাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়লে পাঁচজনই নদীতে পড়ে যান। পরে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আমজাদ ও রাকিব নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হন। এ সময় তারা ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

স্বজনরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন আমজাদ। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর তার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় তিনি ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। বুধবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে ঘুরতে যান তিনি। সন্ধ্যার পর নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দুই দিন পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ আমজাদের স্বজনদের অভিযোগ, রাতে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের উদ্ধার তৎপরতা চালানোর কথা থাকলেও তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। সময়মতো উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা গেলে হয়তো তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকত বলে দাবি করেন তারা।

অন্যদিকে রাকিবের লাশ শনাক্তের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা বাবুল। তিনি বলেন, রাকিব আমার আদরের ছেলে ছিল। ঢাকায় চাকরি করত। কয়েক মাস আগে ভোলায় এসেছিল। আবার ঢাকায় যেতে চেয়েছিল, কিন্তু আদর করে যেতে দিইনি। এমনটা হবে জানলে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিতাম। এখন চিরদিনের জন্য ছুটি নিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেল। শেষবারের মতো ছেলের লাশটা পেয়েছি, এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে জান্নাতবাসী করেন।

নিখোঁজ আমজাদের বাবা মো. ইব্রাহিম বলেন, আমজাদ আমার আদরের ছেলে ছিল। তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় দুই মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিল। আর মাত্র সাত দিন পর ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এখন দেখি, জীবনের তরে ছুটি নিয়ে ফেলেছে আমার বাবা। শেষবারের মতো ছেলেটাকে দেখতে চাই।

ভোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খন্দকার মিরাজুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজদের উদ্ধারে নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার সকালে রাকিবের লাশ নোয়াখালীর রামগতি চরে শনাক্ত করেছেন তার স্বজনরা। তারা লাশটি উদ্ধারের জন্য সেখানে গেছেন। অন্যদিকে আমজাদকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নৌকা নিয়ে মেঘনা নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আজও উদ্ধার অভিযান চলবে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল বলেন, নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। গ্রাম পুলিশ, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিচ্ছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাজ করছে। রাকিবের লাশ ভোলা আনার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে শুক্রবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় ভোলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি ইউনিট। ভোলা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান গোলাম নবী আলমগীরের নির্দেশে তারা এ কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ নদীর পাড় থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৫:৩০   ৮৪ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

জেলা’র আরও খবর


দুর্গাপূজা ঘিরে সুদিন ফেরে মৃৎশিল্পীদের, বাড়ে কর্মব্যস্ততা
ভোলায় অনিবন্ধিত জেলেদের মাঝে ইলিশা সমাজ কল্যাণ সংগঠনের খাদ্য সহায়তা বিতরণ
ভোলায় মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর প্রশাসন: ৮ জেলের কারাদন্ড, লাখ লাখ মিটার জাল জব্দ
ভোলায় তথ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: সেবা পেয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ
ভবন আছে, হোস্টেল আছে-নেই শুধু ম্যাটসের শিক্ষা কার্যক্রম
মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল
ভোলায় জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সাহিদা আক্তারকে সংবর্ধনা
ইলিশায় চুরি, মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
ইলিশায় রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধ ইমামের
র‌্যালী ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ভোলায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত



আর্কাইভ