
চরফ্যাশন প্রতিনিধি।।
চরফ্যাশন কারামাতিয়া কামিল (এম.এ) মাদ্রাসায় নির্ধারিত ক্লাস না নিয়ে পারিবারিক কাজে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী অধ্যাপক (আরবী) মো. মুঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। আগের দুই দিনের ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসায় এসে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর অধ্যক্ষকে না জানিয়ে তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূরুল আমিন জানান, সহকারী অধ্যাপক মো. মুঈন উদ্দিন সঙ্গে মঙ্গলবার(৮ সেপ্টেম্বর) ও বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ছুটিতে ছিলেন। দুই দিনের ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এরপর নির্ধারিত ক্লাস না নিয়ে অধ্যক্ষকে অবহিত না করেই মাদ্রাসা থেকে চলে যান বলে জানান তিনি।
অধ্যক্ষ মাওলানা নূরুল আমিন বলেন, “একজন শিক্ষক হাজিরা দেওয়ার পর নির্ধারিত ক্লাস নেওয়া তার দায়িত্ব। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো প্রয়োজনে কর্মস্থল ত্যাগ করতে হলে কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। কিন্তু তিনি আমাকে বিষয়টি জানাননি।”
অধ্যক্ষের দাবি, এর আগেও মো. মুঈন উদ্দিন প্রায়ই তাকে না জানিয়ে নির্ধারিত ক্লাস না করে মাদ্রাসা ত্যাগ করেছেন। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মো. মুঈন উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি মাদ্রাসা থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “পারিবারিক কাজে বাসায় গিয়েছিলাম।” তবে দুই দিনের ছুটি শেষে মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর অধ্যক্ষকে না জানিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করা এবং নির্ধারিত ক্লাস না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে, শিক্ষকের হাজিরা, কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং নির্ধারিত ক্লাস না নিয়ে অনুমতি ছাড়া মাদ্রাসা ত্যাগের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর এ কে এম আবুল খায়ের বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগটি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও নির্ধারিত সময়ে ক্লাস নেওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রয়োজনে কর্মস্থল ত্যাগের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নিয়ম অনুযায়ী ছুটি বা অনুমতি নেওয়া উচিত। তাই অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫১:২৭ ১০৭ বার পঠিত