
সাহাদাত শাহিন/ এম শাহরিয়ার ঝিলন ॥
আ’লীগ ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমড় এমনভাবে ভেঙ্গে দিয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। সরকারে এখন গ্যাসের অসুবিধা, বিদ্যুতের অসুবিধা। সেখান থেকে আমাদের উঠে আসতে হচ্ছে। ভোলা-বরিশাল সেতু আমরা ভোলার প্রত্যেকটা মানুষই চায়। ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্য আমরা সবাই আন্দোলন করেছি। সংসদে আমরা প্রত্যেকে সেতুর দাবী তুলেছি, সরকার সেটাও দেখছে। আমি দেখেছি কিছু মানুষ এটা বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা বলতে চাচ্ছে আমরা সেতু চাই না, বাস্তবতটা এরকম না। আমি বলবো ভোলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না, বিভক্তি আনবেন না। সরকার তার নিজস্ব অবস্থান থেকে হিজলা-মুলাদী হয়ে সরাসরি শরিয়তপুর হয়ে ঢাকা গেলে ৪০ মিনিট সময় কম লাগে সেটাও সরকার বিবেচনা করছে। ভোলার জন্য বিকল্প কিছু চিন্তা করে ভোলার জন্য যেটা ভালো হয় সেটা আমরা সবাই চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ওখানে বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তারা চিন্তা করবেন কোনটা ভালো হবে। আমরা আমাদের দাবীর কথা বলেই যাবো। এখন একটা বিশেষ মুহুর্তে সরকার যদি কোন কিছু বিবেচনা করে জাস্ট এটা হলে কেমন হয়। তারপরও ওই রাস্তা করতে ৮ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এক ভোলার জন্যই ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হচ্ছে। এই ৬ মাসে ৩শ’ আসনের এমন মধ্যে একটা আসন দেখান যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনতে পারছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি সততার সাথে এই দায়িত্ব পালন করবো ইনশাল্লাহ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি ৩দিনের সফরে ভোলায় এসে নতুন বাজার চত্তরে গণসংবর্ধনায় এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল থেকে চরম বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)’র হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে খেয়াঘাট এবং নতুন বাজার চত্বরে সমবেত হয়।
এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ১৮ বছরে আমি কি রাজনীতি করেছি সেটা আপনারা সবাই দেখেছেন। আমি চাইলে অনেক সুযোগ সুুবিধা নিতে পারতাম। কিন্তু আমি কোন লোভলালসায় পা দেইনি। আমার জীবনের প্রত্যকটি বিপদে ভোলার মানুষ আমার পাশে ছিলো। বিগত নির্বাচনে অনেক আমাকে ভোট দিয়েছেন অনেক দেন নাই। সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগীতা করুন যাতে আমি কাজ করতে পারি। সবাইকে নিয়ে ভোলার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে। এই ভোলাতে কোন প্রতিহিংসার রাজনীতি হবে না।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আপনারা গত ৬ মাস আমাকে দেখেছেন আমি এমপি হিসেবে ছিলাম। কোন এক টাকার দুর্নীতি নাম আপনারা শুনেন নাই, কোন মিথ্যা মামলা, কোন হয়রানী, কোন চাঁন্দাবাজী, কোন ভাগিনা, ভাতিজা শুনছেন আপনারা। ইনশাল্লাহ আমি এতটুকু কথা দেই চোর সন্ত্রাসী আমার দলের না। আমার দল ব্যবহার করে, কেউ যদি ডাকাতি করে, সন্ত্রাসী করে, চুরি করে আমার একটাই কথা আমার কোন সন্ত্রাসী, কোন কমিশন, কোন জিআর-টিআর-কাবিখা, কন্টাকটারী এগুলো আমার রক্তে নাই, আমার বংশে নাই, আমাদের মধ্যে নাই। কোন অনিয়ম-দুর্নীতিকে আমি প্রশয় দেইনি, দেবোও না। টিআর-কাবিখা নিয়ে যদি কেউ অনিময় করে তার বিরুদ্ধে ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ দিবেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সাল থেকে আমার রাজনীতি শুরু। আপনাদের প্রাণপ্রিয় নেতা, আমার পিতা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু ইন্তেকাল করেছেন ২০০৬ সালে। তারপর আমি রাজনীতি আসি। সেই সময়টা ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। সেই সময় মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময় জাতীয়বাতাবাদী শক্তির উপর অনেক অন্যায়-অত্যাচার হয়। একটা বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে আমাকে নির্বাচন করতে হয়, সেই সময় বাংলাদেশে আমাকে কেউ চিনতো না। এই ভোলাতে আমার একটাই পরিচয় ছিলো আমি আপনাদের প্রাণপ্রিয় মঞ্জু মিয়ার ছেলে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের কেউ আমাকে চিনতো না, সেই সময় শাজাহান চাচা জীবিত ছিলো, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী সবাই মিলে কাজ করে ভোলার মানুষ বিশ্বাস করে আমাকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এবং আপনারা ভালো করে জানেন ১৮ বছর আমি কি রাজনীতি করেছি। আমি কি কি করতে পারতাম, আমি কত সুযোগ সুধিবা নিতে পারতাম। কিন্তু আমি সব কিছু বাদ দিয়ে জেল জুলুম মাথায় নিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে মেতেছি। এবং আবারও আমার জীবনের কঠিন সময়, যখন আমি ঢাকাতে নির্বাচন করি, করা তখন একটা সময়ের ব্যাপার। মাত্র ১১ দিনের মাথায় ভোলায় নির্বাচন করি। ভোলাবাসীর উপর নির্ভর এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে আপনারা সবাই মিলে মাত্র ১২ দিনে আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচন করেছেন। আমার জীবনের প্রত্যেকটা বিপদে এই ভোলার মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছি। তার কারণে সরকারী এমপি কিংবা মন্ত্রীর পাশাপাশি আমি এবং আমার পরিবার ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের প্রতি অনেক ঋণি এবং আমি সারাজীবন আপনাদের প্রতি ঋণি থাকবো। এই ভোলাতে আমি কোন এমপি না কোন মন্ত্রী না, আমি আপনাদের মঞ্জু মিয়ার ছেলে হিসেবে থাকতে চাই। এই নির্বাচনের সময় অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন অনেকে আমাকে ভোট দেন নাই। কিন্তু আপনারা সহযোগীতা করেন যাতে আমি সবার জন্য কাজ করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আমি জানি ভোলার মানুষ পাশে ছিলো, আল্লাহতালা চেয়েছে তাই আমি নির্বাচিত হয়েছি। কারও উপর আমি নির্ভলশীল না। আমি শুধু আল্লাহতালার উপর এবং মানুষের উপর নির্ভশলী। আমি কথা দিচ্ছি জামায়াত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন থেকে শুরু করে যারা যারা আমার বিরোধী দল, সংসদে যারা আমার বিরোধী দল প্রত্যেকের জন্য আমার দরজা খোলা। যেখানে উন্নয়নমূলক কাজ আপনারা জানতে যাবেন এবং করতে যাবেন আপনারা আমার কাছে আসবেন। এই ভোলাতে কোন প্রতিহিংসার রাজনীতি হবে না ইনশাল্লাহ। এই ভোলাকে এক রাখতে হবে।

আজকে ভোলার উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়। সংসদে কথা বলেছি। সেতু অনুমোদনের অপেক্ষায় ইনশাল্লাহ। ১২শত কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলায় মেডিকেল কলেজ হবে, নদী ভাঙনের জন্য ৭শত কোটি টাকা বরাদ্দ, সদরের রাস্তাঘাটের জন্য ৫শত কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ভোলার মানুষের জন্য যেটা ভালো হবে, জনগনকে সাথে নিয়ে আমরা সেটাই করবো।
আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমার বাবা এখানে এসেছিলো। বাবাকেও আপনারা ভালোবাসেছিলেন। বাবার এই ভালোবাসার কারণে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। আমরা ভোলাতে সবচেয়ে বেশি উন্নয়নমূলক কারবো ইনশাল্লাহ। আমরা চাই এই উন্নয়নমূলক কাজ করার সময় বিরোধী দলসহ সবাইকে এক সাথে নিয়ে নিবেন। ভোলার উন্নয়নের ব্যাপারে আমরা সবাই এক থাকি। আর কোন মারামারির রাজনীতি হবে না, ভেদাভেদ হবে না। আপনাদেরকে নিয়েই আমরা ভোলার সরকার। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আমি আমার বাবার নাম ধরে রাখতে পারি।

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকার থেকে সড়ক পথে বরিশাল হয়ে লাহারহাট পৌঁছান। বৈরি আবহাওয়ার কারণে তিনি ভোলা আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়। সেখান থেকে স্প্রীডবোট যোগে দুপুর ১টায় তিনি ভোলা খেয়াঘাটে পৌঁছালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি, বিজেপিন ভোলা জেলা সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহসহ নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় ভোলা জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান এবং জেলা পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খেয়াঘাট থেকে শহরের পথে পথে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা তাঁকে ভালোবাসায় সিক্ত করেন। পরবর্তীতে উকিলপাড়াস্থ বাসভবনে মন্ত্রীকে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। বিকালে তিনি বালিয়ার মিয়াবাড়িতে গিয়ে ভোলার উন্নয়নের রূপকার ও তার বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর কবর জিয়ারত করেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৭:২১ ২০৪ বার পঠিত