
মনপুরা প্রতিনিধি ॥
ভোলার মনপুরায় জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের ১ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোঃ আবু মুছার বিরুদ্ধে। ইউএনও’র এমন কর্মকান্ডে ক্রীড়াঙ্গনসহ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে নতুন কুড়ি স্পোর্টসের সরকারি বরাদ্দের এক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম শাহীন ও সদস্য হোসেন হাওলাদার। তারা দুইজনই সরকারি বরাদ্দের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম শাহিন জানান, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের” বিষয়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও ইউএনও মো. আবু মুছা তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। ইউএনও নিজের মত করে সরকারি অর্থ উঠিয়েছেন। কিভাবে খরচ করেছেন ইউএনও বলতে পারবেন। তবে তিনি সরকারি বরাদ্দের তথ্য ও খরচের হিসাব প্রকাশের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী তুলেন। এই ব্যাপারে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হোসেন হাওলাদার জানান, নতুন কুড়ি স্পোর্টসের ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন ২৭ খেলোয়াড়ের জন্য ভোলা যাতায়াতের খরচ ২৬ হাজার টাকা দেন ইউএনও মোঃ আবু মুছা। বাকি টাকা ইউএনও কি করেছেন তিনি জানেননা। তবে তিনি সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী তুলেন।
ভোলা জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি উপজেলায় “নতুন কুড়ি” স্পোর্টসের জন্য ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভোলায় খেলোয়াড়দের অংশগ্রহনের জন্য যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার জন্য ভোলা জেলা থেকে আরও ২৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। সর্বমোট ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
এই ব্যাপারে ভোলা জেলা ক্রীড়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাইদুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নতুন কুড়ি স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারী খেলায়াড়ের যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়ার জন্য জেলা থেকে নগদ ২৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
এই ব্যাপারে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোঃ আবু মুছা জানান, জেলা থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা নতুন কুড়ি স্পোর্টসের প্রচারের জন্য। কিন্তু তিনি সরকারিভাবে বরাদ্দ ১ লক্ষ টাকার ব্যাপারে বলতে রাজি হননি।
এদিকে ইউএনওর বিরুদ্ধে অর্থআত্মসাতের বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. শামীম রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৪:৪৬ ১১৮ বার পঠিত