
দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের জন্য নির্ধারিত ইউরিয়া ও টিএসপি সারের একটি বড় অংশ নিত্যনতুন কৌশলে নদী ও সাগরপথে মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। রোববার খবরে প্রকাশ, ভোলা, চরফ্যাশন, মনপুরা কিংবা হাতিয়ার ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসৎ ডিলারের প্রতিনিধি ও পাচারকারী সিন্ডিকেট সরকারি প্রণোদনার সার সীমান্ত পার করছে। বলা বাহুল্য, খবরটি কেবল উদ্বেগজনক নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট ও কৃত্রিম সংকট তৈরির এক গভীর চক্রান্তও বটে। শুধু তাই নয়, এটি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও সরাসরি হুমকি।
বাস্তবতা হলো, এই অবৈধ কারবারের প্রথম ও প্রধান শিকার হচ্ছেন আমাদের প্রান্তিক কৃষক। একদিকে বাফার গুদামে সার থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চড়া দাম হাঁকা হচ্ছে, অন্যদিকে সময়মতো সার না পেয়ে মাঠেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলের আবাদ। যেখানে সরকারের কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষককে স্বস্তি দেওয়া, সেখানে মধ্যস্বত্বভোগী ও ডিলারদের প্রতিনিধিদের এই বেপরোয়া সিন্ডিকেট সেই সুফল পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিচ্ছে। বাফার গুদাম থেকে সরাসরি ডিলারের বদলে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিহীন প্রতিনিধিদের সার উত্তোলনের যে অলিখিত সুযোগ গড়ে উঠেছে, আমরা মনে করি, দুর্নীতির গোড়াপত্তন মূলত সেখানেই।
এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে অবিলম্বে সরকারকে সমন্বিত ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। ডিলারদের নিজস্ব উপস্থিতি ছাড়া প্রতিনিধি মারফত সার উত্তোলনের অসৎ সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করা, যেসব ডিলারের নাম এই পাচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তাদের লাইসেন্স তাৎক্ষণিক বাতিল করে কঠোর দ-বিধিতে আনা এবং বাফার গুদাম থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোড ব্যবস্থা চালু করে সারের প্রতিটি বস্তার গন্তব্য সুনির্দিষ্ট করা এখন সময়ের দাবি। একইভাবে উপকূলীয় রুট ও ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের আকস্মিক যৌথ তল্লাশি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসকল সদস্যের বিরুদ্ধে নজরদারিতে শিথিলতা বা পাচারে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই ফাঁকফোকর বন্ধ করা অসম্ভব। মনে রাখতে হবে, কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল মেরুদন্ড। তাই এই অসাধু চক্রের বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলে কৃষকের অধিকার রক্ষায় সরকারকে এখনই দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:৫১:৪০ ১৫০ বার পঠিত