
স্টাফ রিপোর্টার ॥
জাতীয় সংসদে আইন পাস করে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও তাদের প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার দাবিতে’ আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। তবে তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ আল-হাবীব।
মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থার মতো বাংলাদেশেও আইন করে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম সংখ্যালঘু হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এটি উলামা-মাশায়েখ ও তাদের সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পরিচয় ও কর্মকা- নিয়ে তাদের অবস্থান ¯পষ্ট। তাদের দাবি, মুসলমানদের ব্যবহৃত কিছু ধর্মীয় পরিভাষা ব্যবহার করা থেকে কাদিয়ানিদের বিরত রাখতে হবে এবং তাদের প্রকাশনা ও প্রচার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।
যে কাজ করলে বান্দার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না
সম্মেলনে হেফাজত আমির দাবি করেন, সম্প্রতি সরকারের কাছে এ বিষয়ে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, খতমে নবুওয়াত বিষয়ে তাদের অবস্থানকে তারা ইসলামের মৌলিক আকিদার অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবির প্রতি সমর্থন জানান এবং এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস অনুযায়ী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী-এটি মুসলমানদের বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।
সম্মেলনে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি ও ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতারা বক্তব্য দেন এবং কাদিয়ানি সম্প্রদায় নিয়ে সংগঠনগুলোর দাবিগুলো তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, কাদিয়ানি বা আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় নীতি ও আইন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৯:০২ ১৪৪ বার পঠিত