খলিল উদ্দিন ফরিদ ॥
ভোলা জেলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া ফিলিপাইনি ব্লাক জাতের আখ চাষ কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। স্বাদে মিষ্টি, রসালো এবং বাজারে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন এই উন্নত জাতের আখকে ঘিরে জেলার কৃষকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফল চাষাবাদের খবর পেয়ে ভোলার কৃষকরাও বাণিজ্যিকভাবে এ জাতের আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপাইনি ব্লাক বা ভিয়েতনামি কালো আখের ফলন প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম। উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া এ জাতের আখ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ভোলায় এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের প্রবাসফেরত কৃষক মো. জুয়েল জানান, প্রথমবারের মতো ৭০ শতক জমিতে ফিলিপাইনি ব্লাক আখের চাষ করেছেন তিনি। গাছের বৃদ্ধি ও ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, “এবার প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে ভালো দাম পেলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এ আখের চাষ করব।”
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন জাতের ফসল সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে চাষিদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খাইরুল ইসলাম মল্লিক বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফিলিপাইনি ব্লাক আখের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের এ সফলতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ জাতের আখ ভোলার অন্যতম লাভজনক কৃষিপণ্যে পরিণত হতে পারে। এতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলার কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সময়: ০:৫৮:০২ ৮৬ বার পঠিত