
ইব্রাহিম আকতার আকাশ ॥
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে মেঘনা নদী উত্তাল থাকায় ভোলার ১০টি অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পযন্ত জেলার ১০টি অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে ছোট-বড় সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। ভোলা নদী বন্দরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকা নৌ-রুটগুলো হলো-ইলিশা-ঢাকা, ভোলা খেয়াঘাট-ঢাকা, ইলিশা-লক্ষ্মীপুর, দৌলতখান-আলেকজান্ডার, ঘোষেরহাট-ঢাকা, বোরহানউদ্দিন-ঢাকা, চরফ্যাশন-ঢাকা, হাতিয়া-ঢাকা, চরফ্যাশন-হাতিয়া, মনপুরা-ঢাকা এবং তজুমদ্দিন-মনপুরাসহ অন্যান্য নৌরুট। তবে ভোলার অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটের মধ্যে স্বাভাবিক রয়েছে ভেদুরিয়া-বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল।
নদী বন্দর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বঙ্গোপসাগরে নিুচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। এতে মেঘনা নদী বেশ উত্তাল রয়েছে। যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তার কথা ভেবে গতকাল সন্ধ্যা থেকে ভোলার ১০টি অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এসব নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।
লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় ভোলার বিভিন্ন লঞ্চঘাটে এসে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। অনেকে চট্রগ্রাম, লক্ষ্মীপুরসহ দূর–দূরান্তের গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘাটে এলেও লঞ্চ বন্ধ থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যান। আবার কেউ কেউ বিকল্প পথে গন্তব্য স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে অনেকেই লঞ্চ না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
ঘাট থেকে ফিরে যাওয়া যাত্রী আরমান হোসেন জানান, জরুরী কাজে চট্টগ্রাম থেকে ভোলায় এসেছিলেন। ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় আগামীকাল থেকে অফিসে করতে হবে। কিন্তু ঘাটে এসে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় বাড়িতে ফিরে গেছেন।
এদিকে নি¤œচাপের প্রভাবে সকাল থেকে জেলা জুড়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতেও দেখা গেছে।
ভোলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বঙ্গোপসাগরে নিুচাপের প্রভাবে ভোলা নদী বন্দরে ৩নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১:১০:১৬ ৯৯ বার পঠিত