
স্টাফ রিপোর্টার।।
ভোলার বিচ্ছিন্ন উপজেলা মনপুরা ইউনিয়নে ২০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে এক সরকারি প্রাইমারী সহকারী শিক্ষককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গুরুতর আহত ওই শিক্ষক মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
গত সোমবার (২২ জুন) মনপুরা ৮নং চর কৃষ্ণপ্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো ফারুক ফরাজি মনপুরা উপজেলা জামে মসজিদ থেকে এশারের নামাজ শেষে বের হলে স্থানীয় যুবদলকর্মী মো: মন্নান ও জাকির মাঝির নেতৃত্ব এই হামলা করা হয়। এতে তার হাটুর নিচে বাম পা ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সহকারী শিক্ষক মো ফারুক ফরাজি বলেন, স্থানীয় যুবদলকর্মী মন্নার তার কাছে দীর্ঘদিন ধরে ২০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়ে আসছিলো। চাঁদা না দিলে মনপুরা উপজেলায় উঠতে পারবিনা বলে হুমকি দিয়ে আসছিলো। এর ফলে আমি স্থানীয় কয়েকজনকে দিয়ে কিছু টাকা তাদের দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা পুরো ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
গত সোমবার (২২ জুন) আমি মনপুরা উপজেলার জামে মসজিদ থেকে এশারের নামাজ শেষে বের হলে আগে থেকে ওতপেতে থাকা স্থানীয় যুবদল কর্মী মো: মন্নান ও জাকির মাঝির নেতৃত্ব ৬/৭জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় দুই পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান রক্তাক্ত ও জখম হয়।হামলা করে আমার বাম পা ভেঙে দেয়ে তারা। এসময় তাদের সাথে আমার উপর হামলায় অংশ নেয় শরীফ, শাহিন, শামীম মোল্লা, হোসেনসহ আরো অনেকই।
তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাড়ালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। আমাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে আমার দুই পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। আমি আত্মৎচিৎকার করলে লোকজন এগিয়ে আসলে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে অজ্ঞান অবস্থা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।
অভিযুক্ত যুবদল কর্মী মো: মন্নান সাথে এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কারুল হাসান বলেন, সহকারী শিক্ষক ফারুক ফরাজি মারধরের ঘটনাটি আমি শুনতে পেয়েছি। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে এখনো জানতে পারিনি। ভুক্তভোগী শিক্ষক যদি লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ দেন এবং সেটা যদি বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট হয় তাহলে আমরা তদন্তের মাধ্যমে দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। একজন শিক্ষকের উপর এ ধরনের হামলা খুবই ন্যাক্কারজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষকের উপর এ ধরনের হামলা কোনভাবেই কাম্য নয়। যারা এই হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।
মনপুরা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, একজন শিক্ষকের উপর এমন হামলার কথা আমাদের কেউ জানায়নি। জানালে কিংবা অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে প্রমান পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একজন শিক্ষকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি সহকারী শিক্ষক সমিতি। সমিতির নেতৃবৃন্দ এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে হামলাকারি জড়িত সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০১:৩৭ ৩৩১ বার পঠিত