নদীভাঙনে ওরা নিঃস্ব

প্রচ্ছদ » জেলা » নদীভাঙনে ওরা নিঃস্ব
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬



---

স্টাফ রিপোর্টার ॥

মেঘনার ভাঙনে ভোলার অসংখ্য বসতবাড়ি ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার ভাঙনের মুখে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে।

ভোলার মেঘনা নদীর তীব্র অব্যাহত ভাঙনের মুখে পড়েছে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ও শিবপুর এবং দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ও চরপাতা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে ইতোমধ্যে মেঘনাগর্ভে বিলীন হয়েছেন কয়েকশ একর ফসলি জমি, পর্যটন স্পট গরিবের ডুবাই, ভিটেমাটি ও নানা স্থাপনা।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৫ সালের বর্ষা মৌসুম থেকে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০০ একর কৃষিজমি, বসতভিটা, বাজার, মাছঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। ভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে ওই চার ইউনিয়নের হুমকির মুখে থাকা মানুষ আন্দোলনসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। শিবপুর নতুন-কালীকীর্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনির চান বলেন, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫-২৬ সালে এসে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২০০ জনের কম। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়টি বর্তমানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে ভাঙনের মুখে অবস্থান করছে। নতুন-কালীকীর্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো আরও ৪-৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাঁধের বাইরে ভাঙনের মুখে।

মেদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ মো. মোসলেহউদ্দিন বলেন, গত এক বছর ধরে ভাঙনের তীব্রতায় গরিবের ডুবাই থেকে দক্ষিণে চরপাতা পর্যন্ত ৫০০ থেকে ৬০০ একর কৃষিজমি মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। ৪-৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক মসজিদ, মাঝিরহাট মাছঘাট, মুন্সিরহাট মাছঘাট, পূর্ব চরপাতা হুমকির মুখে আছে। মাঝির হাটের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন বলেন, এই মেদুয়া ইউনিয়নে ছিল সাবেক পিটিআই ও মহাকুমা শহর। ভাঙনের কারণে শহর ও পিটিআই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১৯৮০-৯০ সালে ভাঙন বন্ধ হয়ে চর পড়তে শুরু করে। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় মেদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২, ৩, ৪ ও ৯নম্বর ওয়ার্ডের ৫-৬ হাজার পরিবার ভাঙনের হুমকিতে আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, ধনিয়া, শিবপুর, মেদুয়া ও চরপাতা ইউনিয়নের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তীর সংরক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে বালুভর্তি জিওটেক্সটাইল বস্তা ফেলা হচ্ছে। চলতি বছরে প্রায় এক লাখ বস্তা ফেলা হয়েছে। কিন্তু এটা স্থায়ী সমাধান নয়।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। যাকে পাচ্ছি তাকেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১:৩৮:৪০   ১২৮ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

জেলা’র আরও খবর


ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন
তেতুলিয়া নদীর ভয়াল ভাঙনে হুমকির মুখে সাচড়া ইউনিয়নের ৫ হাজার পরিবার
ভোলা পৌরসভার ৮০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা, বাড়ছে ভোগান্তি, ঘটছে দুর্ঘটনা
ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ৫ বছরেও চালু হয়নি আইসিইউ সেবা
ভোলায় দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
লালমোহনে ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৩৪ বস্তা সরকারি ভিজিএফ চাল উদ্ধার
অতিরিক্ত জোয়ারে তলিয়ে গেল মনপুরার রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা
মেঘনার অতিজোয়ারে প্লাবিত ভোলার উপকূল, পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ
মনপুরায় জোয়ারে ভাসলো আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দরা, পানবন্দি হাজার হাজার মানুষ
মনপুরায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ



আর্কাইভ