ধর্ষণ চেষ্টার বিচার নিয়ে থানায় যাওয়ায় মারধর, ভিক্টিমসহ আহত ৩

প্রচ্ছদ » অপরাধ » ধর্ষণ চেষ্টার বিচার নিয়ে থানায় যাওয়ায় মারধর, ভিক্টিমসহ আহত ৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬



---

চরফ্যাসন প্রতিনিধি ॥

চরফ্যাসনে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টায়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী জাকির হোসেন নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে।ঘটনাটি গ্রাম জুড়ে জানাজানি হলে অভিযুক্ত ওই বৃদ্ধকে গ্রামবাসী গণধোলাই দেন। পরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে দেন। কিন্তু পুলিশ কোন আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে সমোঝতার জন্য স্থানীয় মাতাব্বর রিয়াজ ফরাজী ও গ্রাম পুলিশ আলগীর হোসেন জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেন।

ঘটনার একদিন পর অভিযুক্ত জাকির হোসেন ও তার স্বজনরা কেন থানায় অভিযোগ জানানো হলো এমন অভিযোগ তুলে ভিক্টিম কিশোরীসহ তার মা-বাবা ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে গুরুতর জখম করেন। পরে প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দক্ষিণ আইচা থানার চর আইচা গ্রামের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ভিক্টিম কিশোরীর বাড়ির পাশে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার চরফ্যাসন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভিক্টিম কিশোরী জানান, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি তাদের একটি হারিয়ে যাওয়া হাঁস খুজতে প্রতিবেশী জাকিরের বাড়িতে যায় তার বাড়ি থেকে ফেরার পথে বাগানের পাশে নির্জন স্থানে জাকির আমাকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণ চেষ্টায় চালায় আমি চিৎকার দিয়ে উঠলে সে আমার হাতে একটি ১ হাজার টাকার নোট গুজে দিয়ে চুপ থাকতে বলে পরে আমি তার কবল থেকে নিজকে রক্ষা করে বাড়ি ফিরে এসে আমার বড় ভাবি ও মাকে ঘটনাটি জানাই। পরে মা প্রতিবেশীদের জানালে প্রবেশীরা তাকে চড় থাপ্পর দিয়ে গ্রাম পুলিশ আলমগীগের হাতে তুলে দেন।

ভিক্টিম কিশোরীর মা জানান, তার স্বামী একজন রিক্সা চালক। তিনি বাড়িতে থাকেন না। গত বৃহস্পতিবার( ২৫ জুন) তার একটি পালিত হাঁস বাড়ি ফিরেনি। তিনি এবং তার কিশোরী মেয়ে হাঁস খুজতে প্রতিবেশী জাকিরের বাড়িতে যান সেখানে না পেয়ে তার মেয়েকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে তিনি অন্য বাড়িতে যান। পথের মধ্যে জাকির তার কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টায় করেন। বাড়ি ফিরলে মেয়ে তাকে জানালে তিনি ঘটনাটি প্রতিবেশীদের জানিয়ে থানায় থানায় যান। থানা পুলিশ চকিদারের মাধ্যমে অভিযুক্ত জাকিরকে থানায় ডেকে নিয়ে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে সমোঝতার জন্য স্থানীয় মাতাব্বর রিয়াজ ফরাজী ও গ্রাম পুলিশ আলগীর হোসেন জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেন। ঘটনার একদিন পর বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে আমার অভিযোগ জানাতে কেন থানায় গেলাম এমন অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত জাকির হোসেন ও তার দলবলরা মিলে আমার স্বামীর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে গুরুতর জখম করে। আমার স্বামীকে রক্ষা করতে আমার কিশোরী মেয়ে ও আমি এগিয়ে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। পরে প্রতিবেশীরা আমাদের উদ্ধার করে বিকালে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন। আমারা এখনও চরফ্যাসন হাসপাতালে কিচিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছি।

গ্রাম পুলিশ আলমগীর জানান, অভিযুক্তকে থানায় হাজির করার পর রিয়াজ মাষ্টার অভিযুক্ত জাকির হোসেন চিকিৎসার জন্য জিম্মায় নেয়। আর পুলিশ ভিক্টিমকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। আমি কোন সমোতার সাথে জড়িত নই।

জিম্মাদার রিয়াজ মাষ্টারের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানাযায়নি।

চরফ্যাসন থানার ওসি আহসান হাবিব ছুটি থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ওই থানার জেষ্ট পুলিশ পরিদর্শক (সেকেন্ড অফিসার) জানান, বিয়ষটি আমার জানা নাই তবে এখনই ওসি স্যারের সাথে কথা বলে খতিয়ে দেখা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১:৩২:২৩   ৬৬ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অপরাধ’র আরও খবর


দৌলতখানে চুরি আতঙ্কে ঘুম নেই খামারিদের
বোরহানউদ্দিনে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে ৬জনকে আটক, পথেই পালালেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
চরফ্যাশনে বিধবাকে পিটিয়ে হাত ও বুকের হাড় ভাঙার অভিযোগ, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৩
লালমোহনে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে স্বামীর আত্মহত্যা
স্বামীর নামে যৌতুক মামলা দিয়ে ঘরের মালামাল নিয়ে উধাও স্ত্রী!
বোরহানউদ্দিনে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ
তজুমদ্দিনে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ভোলায় দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
লালমোহনে ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৩৪ বস্তা সরকারি ভিজিএফ চাল উদ্ধার
তজুমদ্দিনে বসতঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত



আর্কাইভ