
আল আমিন ॥
যে বয়সে ছোট্ট শিশুর মুখে থাকার কথা হাসি, হাতে থাকার কথা খেলনা সেই বয়সেই অসুস্থতার যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে দিন পার করছে ভোলা সদর উপজেলা শিবপুরের ৩ বছরের শিশু আঃ রহিম।
জন্মের পর থেকেই রহিমের শরীরে দেখা দেয় ঘা-পাঁচড়া। প্রথমে স্বজনরা বিষয়টিকে সাধারণ সমস্যা মনে করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ভয়াবহ চর্মরোগে রূপ নেয়। ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে রোগটি। অসহ্য যন্ত্রণা আর কষ্ট নিয়ে রাতে ঘুমাতেও পারেন না শিশুটি।
রহিম ভোলার শিবপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের শাহাজান মাঝি ও হাচিনা বেগমের ছোট সন্তান। নদী ভাঙন আর অভাবের সংসারে যেখানে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে সন্তানের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে অসম্ভব।
শিশুটির মা হাচিনা বেগম বলেন, “আমার কলিজার টুকরো সন্তানটা প্রতিদিন কষ্ট পাচ্ছে। চোখের সামনে ওর যন্ত্রণা দেখি, কিন্তু টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনে দিতে পারি না। একজন মা হিসেবে এই কষ্ট সহ্য করা খুব কঠিন।”

চিকিৎসকদের মতে, সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে ছোট্ট রহিম। তবে অর্থের অভাবে থেমে আছে তার চিকিৎসা। দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা না গেলে রোগটি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ছোট্ট রহিমের চোখে আজও বেঁচে থাকার স্বপ্ন। প্রয়োজন শুধু একটু সহযোগিতা, একটু মানবিক হাত। সমাজের হৃদয়বান মানুষদের সহায়তা পেলে হয়তো আবারও হাসতে পারবে এই নিস্পাপ শিশুটি, ফিরতে পারবে স্বাভাবিক জীবনে।
তাই সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও প্রবাসী মানুষের কাছে সাহায্যে আকুল আবেদন জানিয়েছেন রহিমের পরিবার ও স্বজনরা। সকলের সহযোগিতায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে রহিম এই প্রত্যায় রহিমের পরিবার।
বাংলাদেশ সময়: ০:৩৬:০২ ৭৮ বার পঠিত