
লালমোহন প্রতিনিধি।।
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী ভোলার লালমোহনের কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন চপলের (৪৫) মরদেহ দীর্ঘ ৭ দিন পর হেলিকপ্টারযোগে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় মরদেহ বহনকারী সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারটি লালমোহন সরকারি শাহবাজপুর কলেজ মাঠে অবতরণ করে। এ সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রিয় মানুষকে শেষবারের মতো দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে।
জানা গেছে, শাহবাজপুর কলেজ মাঠ থেকে মরদেহ নেওয়া হয় তার নিজ গ্রাম লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ফরাজীবাজার এলাকায়। সেখানে বিকেল সাড়ে ৫টায় সেনাবাহিনীর সুসজ্জিত দলের উপস্থিতিতে যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর মেজর আকিব হাসানের নেতৃত্বে মরহুমের প্রতি মরণোত্তর গার্ড অব অনার (সালাম) প্রদর্শন করা হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সেনাবাহিনীর মেজর আকিব হাসানের নেতৃত্বেই শান্তিরক্ষা মিশন থেকে এই বীর সেনানির মরদেহ ঢাকা হয়ে লালমোহনে তার নিজ গ্রামে আনা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল ৪৬ বীর ব্যাটালিয়নের লেফট্যানেন্ট ওমর ফারুকসহ ১৩ সদস্যের একটি চৌকস টিম এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুম মহিউদ্দিন চপল লালমোহনের কালমা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের সন্তান। মৃত্যুকালে তিনি বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মাত্র দুই মাস আগে শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে দক্ষিণ সুদান গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে কর্তব্যরত অবস্থায় তিনি মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উগান্ডার কামপালা লেভেল-৩ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও বীর সেনা সদস্য।
তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও পুরো লালমোহন এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার মানুষ তাকে একজন অত্যন্ত সৎ, দেশপ্রেমিক ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৪:৫৩ ১৩৭ বার পঠিত