
স্টাফ রিপোর্টার ॥
সদ্যপ্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে ভোলা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে-এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোয় দাবি করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের এই নেতার জানাজা ঠেকাতে পুলিশ ধাওয়া ও লাঠিপেটা করছে।
এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
“বঙ্গবন্ধু’র বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ২ জুন দুপুর ১টার দিকে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়, যা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ভিডিওটি গতকাল বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ৯৬ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। এতে ২ হাজার ৪০০ রিঅ্যাকশন ও ২৮৭ কমেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটি ৭১৭ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে।
ভিডিওটির কমেন্ট পর্যালোচনা করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কেউ কেউ এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আবার অনেকেই বলেছেন যে এটি ভোলার কোনো ঘটনার ভিডিও নয়।
ভিডিওটিতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘দর্শক, আপনাদের দেখানোর চেষ্টা করছি পুলিশের সেই ধাওয়া ও লাঠিচার্জ।’ ভিডিওতে কিছু সংখ্যক মানুষকে উদ্দেশ্য করে পুলিশকে ধাওয়া ও লাঠিপেটা করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওর এক পর্যায়ে ‘বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশন’ লেখা একটি গেট ও লোগো ¯পষ্টভাবে দেখা যায়।
এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওতে দৃশ্যমান স্থানের সঙ্গে ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ভবনের সামনে থাকা গেট ও লোগোর মিল পাওয়া যায়।
এ ছাড়া জাতীয় কোনো মূলধারার গণমাধ্যমেও তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে ভোলায় পুলিশের কোনো কঠোর ব্যবস্থার অথবা শহর রণক্ষেত্র হওয়ার মতো কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
পরে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেখা যায়, একই ভিডিও ভিন্ন ভিন্ন সময় ও ভিন্ন ক্যাপশনে আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ‘ক্যাম্পাসিয়ান পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘১৩ তারিখ আসার আগেই খেলা শুরু হয়ে গেছে’ ক্যাপশনে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর আলোচ্য ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ‘ঘবধসধঃ টষষধয ঘরুধসর’ নামের আরেকটি পেজ থেকেও গত বছরের নভেম্বরে ‘আল্লামা সাঈদীর প্রতিটি বাণী যেন সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে’ ক্যাপশনে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছিল। সম্প্রতি ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে এসব ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া গেছে, যদিও কোনো ভিডিও থেকেই বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘উযধশধ চৎড়শধংয’-এর নামে খোলা একটি ফেসবুক পেজে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ‘১৩ নভেম্বরের আগেই আ.লীগ কর্মীদের দৌড়ানি দিচ্ছে পুলিশ, এ যেন চোর-পুলিশের খেলা’ ক্যাপশনে প্রচারিত ওই ভিডিওটির সঙ্গেই সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। একই ঘটনার ভিডিও ‘দ্য নিউজ’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজেও সে সময় প্রকাশ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। সে সময় লকডাউন কর্মসূচিতে কেউ মাঠে নামলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মূলত সেই সময় ঢাকার তেজগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনের সামনে জড়ো হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার পুরোনো ভিডিওটিকেই এখন ভোলার ঘটনা দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে।
সিদ্ধান্ত
সব মিলিয়ে দেখা যায়, তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে ঘিরে ভোলায় পুলিশের লাঠিপেটার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়; বরং এটি পুরোনো একটি ভিন্ন ঘটনার ভিডিও, যা নতুনভাবে ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:১৫:১৩ ৫৩ বার পঠিত