ভোলায় চামড়ার ভালো দাম পাচ্ছে না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » ভোলায় চামড়ার ভালো দাম পাচ্ছে না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬



---

আদিল হেসেন তপু।।

ভোলায় কোরবানির পশুর চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত দাম থাকলেও স্থানীয় বাজারে অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে লোকসানের মুখে পড়েছেন সংগ্রহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

ভোলা শহরের বিভিন্ন আড়ৎ ও অস্থায়ী চামড়া বাজারে ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিক্রির জন্য ভিড় করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তবে ক্রেতারা চামড়ার মান ও বাজার পরিস্থিতির কথা বলে কম দাম প্রস্তাব করছেন।

লালমোহন থেকে চামড়া কিনে ভোলায় বিক্রি করতে আনা হাফেজ আরিফুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার ব্যয় ভার মেটানোর জন্য এবছর কোরবানি ঈদে আশাকরে চামড়া কিনছি ভালোো দাম পাবো।কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি। চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে এসে তারা কিনা দামও বলছেনা। তাহলে পানির দামে দিয়ে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।

মৌসুমী ব্যবসায়ীরা জানান, একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম যেখানে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা হওয়ার কথা, সেখানে অনেক স্থানে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাধ্য হয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

মৌসুমী ব্যবসায়ী শহীদ বলেন, লবণ, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু বাজারে এসে সেই খরচও উঠছে না।

আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই ছোট ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।

এদিকে স্থানীয় আড়তদাররা বলছেন, ট্যানারিগুলো থেকে চাহিদা কম থাকায় এবং সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চামড়ার দাম কমে গেছে।

---

কালিনাথ রায়ের বাজারের প্রায় দুই যুগেরও বেশি ধরে চামড়ার ব্যবসা করে আসা আব্দুল মালেক বলেন, বেশ কয়েক বছে ধরে চামড়া ব্যবসায় করে টেনারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করে টাকা পাচ্ছি না। আমাদের বড় লোকশান যাচ্ছে। আমারা কি দিয়ে চামড়া কিনবো। আমাদের পাওনা টাকা পাচ্ছি না। ব্যাংকও আমাদের লোন দিচ্ছে না।কারও কাছে আওলাত (ঋণ) নিমু দাও দিচ্ছে না।

 আরেক জন চামড়া ব্যবসায়ী ইয়াদ হোসেন বলেন,আমরা বিগত বছর সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনছি। কিনে যখন ঢাকাতে চামড়া পাঠাই তখন টেনারি মালিকরা আমাদের সরকার নির্ধারিত দাম দেয়না। বিগত কয়েক বছর ধরে আমাদের একেকজন চামড়া ব্যবসায়ীর ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পাবো। আমাদের সেই পাওনা টাকা দিচ্ছে না। এতে আমরা পুঁজি অভাবে চামড়া কিনতে পারছি না। এখন সরকার যদি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মনিটরিং করে চামড়া কিনার ব্যবস্থা করে তাহলে ক্রেতা ও বিক্রেতা অভয় লাভবান হবে।

চামড়া ব্যবসায়ী মো সোহেল জানান, ংট্যানারি মালিকদের কাছে রয়েছে মোটা অংকের বকেয়া। ব্যাংক থেকে পাওয়া যাচ্ছে না ঋণ। অর্থ সংকটে ঈদুল আজহা ঘিরে চামড়া কেনার প্রস্তুতি নেই আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বারবার লোকসান গুনে এ ব্যবসায় আগ্রহ হারিয়েছি।

---

এমনকি রোজার ঈদের পর চামড়া কিনে আসল দামেও বেঁচতে পারিনি। এজন্য এবার আর চামড়া কেনার কোনো আগ্রহ নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়ার বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে অনেকেই এ ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সময়: ২১:১০:০৪   ১২৬ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অর্থনীতি’র আরও খবর


পিকেএসএফ ও এফডিএ-এর উদ্যোগে চেয়ারম্যান বাজার শাখায় বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ
মধ্যরাতে খুলছে বঙ্গোপসাগর
ভোলায় গ্যাসের প্রাচুর্য, তবে গতি নেই শিল্পায়নে
যদিও সে দৃষ্টিহীন তবুও সে সফল কর্মজীবী একজন লোক সুফিয়ান
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগ: ভোলা শাখায় এক ঘণ্টার কলম বিরতি
ভোলায় দরিদ্র পরিবারের স্বাবলম্বিতায় মুরগি পালন সহায়তা উপকরণ বিতরণ
ভোলায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমকে অপসারণ ও এ কে এম ফারুকের পুনর্বহালের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন
ভোলায় চামড়ার ভালো দাম পাচ্ছে না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা
মনপুরায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি ব্যবসায়ীদের
ভোলার ঐতিহ্যবাহী গজারিয়া পশুর হাট: আড়াইশ বছর ধরে খাজনা ফ্রি বেচাকেনা



আর্কাইভ