
আজকের ভোলা রিপোর্ট ॥
ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার ওপর হামলার ঘটনায় শশীভূষণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত নোমান মহাজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত নোমান মহাজন জাহানপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি জাহানপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এলাকার মরহুম হাবিবুল্লাহ মহাজনের ছেলে। ঘটনাটি ঘটে রোববার (২৪ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাসিরদোন বাজারের জসিম মালের ফার্মেসিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোমান মহাজন ফার্মেসিতে বসে থাকা অবস্থায় অতর্কিত হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. কাশেম (২৮) নামের এক যুবককে। তিনি জাহানপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের বর্তমান সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে। তার পিতার নাম মহাসিন এবং তিনি বেলু মাঝি বাড়ির বাসিন্দা। মামলার বাদী হয়েছেন আহত নোমান মহাজনের চাচা সুফিউল্লাহ মহাজন।
এদিকে হামলার ঘটনায় আহত নোমান মহাজনের এক ভাগিনা দাবি করেন, রাজনৈতিক ও পূর্ব বিরোধের জেরধরেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “গত ইউপি নির্বাচনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে নোমান মহাজন মেম্বার হতে পারেননি। এবার তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করায় একটি পক্ষ তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া পূর্বের একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বিরোধ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দোষীদের বিচার একদিন হবেই।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মীর কাশেমের ফোনে একাধিক কল করার পরও তাদের পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হামলার ঘটনার বিষয় চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফ ফরাজির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোঃ কাশেম ছাত্রদলের কেউ না। এ বিষয় কোন মন্তব্য করতে রাজি নয়।
শশীভূষণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ জানান, এ বিষয় মামলা হয়েছে, আমরা তদন্ত করতেছি, দোষীদের আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১:৪৬:১৬ ৬০ বার পঠিত