বেশিরভাগ সময় গেটে ঝোলে তালা, আসে না পাঠক

প্রচ্ছদ » জেলা » বেশিরভাগ সময় গেটে ঝোলে তালা, আসে না পাঠক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬



---

বিশেষ প্রতিনিধি ॥

সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। তার নামে নিজ জেলা ভোলা সদর উপজেলার ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তাফা কামাল নগরে গড়ে উঠেছে একটি গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। ২০০৮ সালের ৩ মে এটি স্থাপিত হলেও বর্তমানে অযতœ ও অবহেলায় পড়ে আছে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি। আসে না দর্শনার্থী। বেশিরভাগ সময় এটি তালাবদ্ধ থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে প্রবেশের গেট তালাবদ্ধ। চোখে পড়লো কোনো দর্শনার্থী। কয়েক ঘণ্টা পর তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক মো. রাশেদ।

ভেতরে দেখা গেলো সব কিছু জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ১১টি আলমারিতে সাজানো আছে বিভিন্ন ধরনের বই। তবে চারটি আলমারিই ভাঙা। কিছু চেয়ার-টেবিল ও ফ্যান নষ্ট।

জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক রাশেদ জানান, শুরু থেকেই এখানে কর্মরত আছেন। শুরুতে দৈনিক ১২০ টাকা বেতনে চাকরি করছেন। এখন তা বেড়ে দৈনিক ৭০০ টাকা হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে শুরুর দিকে বেশ কয়েক বছর জমজমাট ছিল। কিন্তু এরপর বেশি কয়েক বছর ধরেই এটা জমজমাট নেই। সপ্তাহে ২-৪ জন ঘুরতে আসেন। কিন্তু বই পড়তে আসেন না তেমন কেউ।

তিনি আরও জানান, জনবল সংকটের কারণে তাকে একাই অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। যে কারণে কোনো কোনো দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা সম্ভব হয় না।

দেখার মতো কিছুই নেই এখানে। একজন আসবে ঘুরে ঘুরে দেখবে কিন্তু দেখার নেই কিছু। যেসব বই রয়েছে তা পুরোনো। এক বই একবারের বেশি তো কেউ পড়ে না। ফলে মানুষ এখানে একবার এলে আর আসে না। সরকার যদি এটি উন্নত করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে প্রাণ ফিরে পাবে জাদুঘর।

রাফিয়া জাহান ও ঝুমুর আক্তার নামের দুই শিক্ষার্থী জানান, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে তারা আগে মাঝেমধ্যে আসতেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময় এটি বন্ধ থাকে। যেসব বই রয়েছে তা পুরোনো। যে কারণে তারা আর এখানে আসেন না।

দর্শনার্থী নুর উদ্দিন ও হাবিবুর রহমান বলেন, ‘স্মৃতিঘরের আসবারপত্র, বই সবকিছুই পুরোনো। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এটাতে আধুনিকায়ন জরুরি। তাহলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে।’

মোস্তফা নগরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফিরোজ। জাদুঘরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

ফিরোজ বলেন, ‘দেখার মতো কিছুই নেই এখানে। একজন আসবে ঘুরে ঘুরে দেখবে কিন্তু দেখার নেই কিছু। যেসব বই রয়েছে তা পুরোনো। এক বই একবারের বেশি তো কেউ পড়ে না। ফলে মানুষ এখানে একবার এলে আর আসে না। সরকার যদি এটি উন্নত করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে প্রাণ ফিরে পাবে জাদুঘর।’

জাদুঘরটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আলীনগর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাজাহান গাজী।

তিনি বলেন, ‘জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের এমন কিছু রাখা হয়নি যে বর্তমান প্রজন্ম সহজে সেখানে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেত পারবে। মুক্তিযুদ্ধের কয়েকটি বই ছাড়া কিছু নেই। বিষয়টি দুঃখজনক। জাদুঘরে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের একটি ছবি ও প্লেট ছাড়া কিছু নেই।’

শাজাহান গাজী বলেন, ‘এখানে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের অনেক কিছু থাকা উচিত ছিল। বর্তমান সরকার সংসদে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে কর্নার করেছে। আশা করি, সরকার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের উন্নতির দিকে নজর দেবে।’

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের আধুনিকায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান।

তিনি বলেন, আধুনিকায়ন করা হলে এখানে দর্শনার্থী ও পাঠকদের সংখ্যা বাড়বে।

বাংলাদেশ সময়: ০:৫৭:৪৯   ২১১ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

জেলা’র আরও খবর


মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে হামলা-মারধর, আহত-৫
ভোলায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বৈঠক
ভোলায় সাংবাদিকের বাসায় ফের চুরি: আলমারি-ওয়ারড্রব ভেঙে সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণ, নগদ ২২ হাজার টাকা ও মোবাইল চুরি
ভোলার গ্যাস বদলে দিতে পারে দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ
ভোলা পৌরসভায় ৪১ লাখ টাকা অনিয়মের অভিযোগ, ডেঙ্গু আতঙ্কে পৌরবাসী
ভোলায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় নতুন দৃষ্টান্ত
ভোলায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শিক্ষাশিবির ও সমাবেশ: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ন্যায়ভিত্তিক শ্রমব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব
ভোলা কেন্দ্রীয় কবরস্থানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও দোয়া অনুষ্ঠিত
ভোলায় ২৫ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
ভোলায় কাব্যাঙ্গনের উদ্যোগে তিন দিন ব্যাপী আবৃত্তি কর্মশালার সমাপনী ও আবৃত্তি উৎসব



আর্কাইভ