ঝড়-বৃষ্টিতে ভোলায় কৃষকদের স্বপ্ন ডুবে আছে পানিতে, ক্ষতি ২১ কোটি টাকা

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » ঝড়-বৃষ্টিতে ভোলায় কৃষকদের স্বপ্ন ডুবে আছে পানিতে, ক্ষতি ২১ কোটি টাকা
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬



 ---

ছোটন সাহা ॥

ভোলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কয়েক দফা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে ভোলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুগডাল, চিনা বাদাম ও সয়াবিনের ফসলের। এসব দুর্যোগে জেলায় প্রায় ২১ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আকস্মিক এই ক্ষতিতে জেলার শত শত কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকরা জানান, বর্তমানে জেলার অধিকাংশ এলাকায় মুগ, চিনাবাদাম ও সয়াবিন ঘরে তোলার মৌসুম চলছিল। কিছুদিনের মধ্যে এসব ফল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ঠিক সেই মুহুর্তে টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ফসলি জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে অনেক জমিতে কয়েকদিন ধরে পানি আটকে থাকায় ক্ষেতের ফসল পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকায় ক্ষতির মাত্রা বেশি।

ভোলা সদরের আলীনগর ও চরসামাইয়া এলাকার কৃষক রুহুল আমিন ও ছিদ্দিক ও সেরাজুল বলেন, জমিতে সয়াবিন ও মুগডালের আবাদ করেছি, সেগুলোর মধ্যে ৬০ ভাগ ফসল কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। এখন ফসল তোলার আর কোনো সুযোগ নেই। প্রায় ৩০/৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই উপজেলার আলীনগর এলাকার কৃষক পারভেজ জানান, লাভের আশায় ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি আবাদ করেছিলেন। কিন্তু এখন পুরো ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “মাঠে যা ছিল সবই শেষ। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় আছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে দীর্ঘ সময় পানি আটকে রয়েছে। খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।

---

বাপ্তা এলাকার কৃষক মো. মাসুদ বলেন, এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে জমি ডুবে গেছে। যদি পানি নামার ব্যবস্থা থাকত তাহলে এত ক্ষতি হতো না।

আলীনগর এলাকার কৃষক রিপন বলেন, “জমির সঙ্গে খালের সংযোগ থাকলে পানি দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কৃষকদের কথা শুধু বলা হয়, বাস্তবে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

স্থানীয় কৃষকরা আরও, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে এসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। অনেক কৃষকই এখন নতুন করে আবাদ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা করছেন।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভোলার উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শামীম আহমেদ বলেন, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলায় ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এক কোটি ৬২ লাখ টাকার মুগডাল, ১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার চিনাবাদাম এবং দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকার সয়াবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩২:২৩   ১৩৫ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অর্থনীতি’র আরও খবর


পিকেএসএফ ও এফডিএ-এর উদ্যোগে চেয়ারম্যান বাজার শাখায় বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ
মধ্যরাতে খুলছে বঙ্গোপসাগর
ভোলায় গ্যাসের প্রাচুর্য, তবে গতি নেই শিল্পায়নে
যদিও সে দৃষ্টিহীন তবুও সে সফল কর্মজীবী একজন লোক সুফিয়ান
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগ: ভোলা শাখায় এক ঘণ্টার কলম বিরতি
ভোলায় দরিদ্র পরিবারের স্বাবলম্বিতায় মুরগি পালন সহায়তা উপকরণ বিতরণ
ভোলায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমকে অপসারণ ও এ কে এম ফারুকের পুনর্বহালের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন
ভোলায় চামড়ার ভালো দাম পাচ্ছে না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা
মনপুরায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি ব্যবসায়ীদের
ভোলার ঐতিহ্যবাহী গজারিয়া পশুর হাট: আড়াইশ বছর ধরে খাজনা ফ্রি বেচাকেনা



আর্কাইভ