গো-খাদ্যের চড়া দামে লাভ নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » গো-খাদ্যের চড়া দামে লাভ নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা
শনিবার, ৯ মে ২০২৬



---

বিশেষ প্রতিনিধি ॥

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলার খামারিরা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। একই সঙ্গে কোরবানির হাটে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।

সরেজমিনে সদর উপজেলার বিভিন্ন খামারে ঘুরে দেখা গেছে, খামার মালিক ও শ্রমিকরা গরু পরিচর্যায় দিনরাত পার করছেন। তাদের লক্ষ্য কোরবানির হাটে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও আগেভাগেই গরু বিক্রি নিশ্চিত করা। অধিকাংশ খামারে দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। তবে গো-খাদ্যের চড়া মূল্যের কারণে মুনাফা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে খামারিদের মাঝে।

সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকার খামারি মো. মনিরুল ইসলাম ও শ্রমিক মো. মাহবুব জানান, কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রায় ৬ মাস ধরে তারা গরু পালন করছেন। দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা এসব গরুর ভালো চাহিদা থাকবে বলে আশা করছেন। তবে কাক্সিক্ষত দাম না পেলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে।

এ বছর জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। ভোলার সাত উপজেলায় ১ লাখ ৩ হাজার ১৭টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে চাহিদা রয়েছে ৮১ হাজার ১৮০টি পশুর। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৬৫ হাজার ২৭১টি

মিজি বাজার সংলগ্ন মালেগো বাড়ির খামারি মো. আলী ও মো. জিহাদ হোসেন জানান, তাদের খামারে ৬টি দেশীয় গরু কোরবানির জন্য মোটাতাজা করেছেন। এতে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। কিন্তু গত বছরের চেয়ে এ বছর গো-খাদ্য গম, ভূট্ট ভাঙা, খৈল ও ভূষিসহ সুষম দানাদার খাবার মণপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে এ বছর গরু মোটাতাজা করতে খরচও বেশি হয়েছে।

তারা বলেন, ‘হাটে গরুর ন্যায্য মূল্য না পেলে উৎপাদন খরচও উঠবে না, ফলে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমাদের নিজস্ব পুঁজি নেই যে গরুগুলো পুনরায় পালন করবো, তাই লোকসান দিয়ে হলেও বিক্রি করতে হবে।’

একই ইউনিয়নের ব্যাপারী বাড়ির খামারি মো. দুলাল ব্যাপারী জানান, ‘আমরা দেশীয় গরুগুলো প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করেছি। যদি ভারতীয় গরু হাটে ওঠে, তবে আমরা ন্যায্য দাম পাব না। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই যেন এ বছর ভারতীয় গরু আসা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়।’

ভোলার সচেতন নাগরিক মো. সুমন ও মো. লিটন অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু খামারি অধিক লাভের আশায় ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করার চেষ্টা করে। এসব খামারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি হাটে অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত গরু বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানান।

‘হাটে গরুর ন্যায্য মূল্য না পেলে উৎপাদন খরচও উঠবে না, ফলে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমাদের নিজস্ব পুঁজি নেই যে গরুগুলো পুনরায় লালন-পালন করব, তাই লোকসান দিয়ে হলেও বিক্রি করতে হবে।’

ভোলা জেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন জানান, এ বছর জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। ভোলার সাত উপজেলায় ১ লাখ ৩ হাজার ১৭টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে চাহিদা রয়েছে ৮১ হাজার ১৮০টি পশুর। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৬৫ হাজার ২৭১টি।

গো-খাদ্যের দাম নিয়ে তিনি বলেন, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে খরচ বেড়েছে বলে খামারিরা বলছেন। আমরা খামারিদের পরামর্শ দিয়েছি, কাঁচা ঘাঁস ও খড় বেশি পরিমাণ খাওয়ানোর জন্য। এতে কিছু খরচ কমবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ ক্ষতিকর পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ও প্রতিটি পশুর হাটে মেডিকেল টিম থাকবে যেন কোনো অসুস্থ পশু বিক্রি হতে না পারে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৭:১৯   ১৪০ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অর্থনীতি’র আরও খবর


পিকেএসএফ ও এফডিএ-এর উদ্যোগে চেয়ারম্যান বাজার শাখায় বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ
মধ্যরাতে খুলছে বঙ্গোপসাগর
ভোলায় গ্যাসের প্রাচুর্য, তবে গতি নেই শিল্পায়নে
যদিও সে দৃষ্টিহীন তবুও সে সফল কর্মজীবী একজন লোক সুফিয়ান
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগ: ভোলা শাখায় এক ঘণ্টার কলম বিরতি
ভোলায় দরিদ্র পরিবারের স্বাবলম্বিতায় মুরগি পালন সহায়তা উপকরণ বিতরণ
ভোলায় ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমকে অপসারণ ও এ কে এম ফারুকের পুনর্বহালের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন
ভোলায় চামড়ার ভালো দাম পাচ্ছে না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা
মনপুরায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি ব্যবসায়ীদের
ভোলার ঐতিহ্যবাহী গজারিয়া পশুর হাট: আড়াইশ বছর ধরে খাজনা ফ্রি বেচাকেনা



আর্কাইভ