ইলিশা-ঢাকা নৌরুটের লঞ্চ ক্যান্টিনে অতিরিক্ত দামে খাবার বিক্রির অভিযোগ, যাত্রীদের ক্ষোভ

প্রচ্ছদ » অপরাধ » ইলিশা-ঢাকা নৌরুটের লঞ্চ ক্যান্টিনে অতিরিক্ত দামে খাবার বিক্রির অভিযোগ, যাত্রীদের ক্ষোভ
শনিবার, ৯ মে ২০২৬



---

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ভোলা’র ইলিশা-ঢাকা নৌরুটে চলাচলকারী বিভিন্ন যাত্রীবাহী লঞ্চের ক্যান্টিনে অতিরিক্ত দামে নিম্নমানের খাবার ও পানীয় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে খাদ্যপণ্য বিক্রি করে প্রতিনিয়ত সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে অনেক সময় ক্যান্টিন কর্মচারী ও লঞ্চ স্টাফদের অসৌজন্যমূলক আচরণেরও শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

শনিবার (৯ মে) ভোলা থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী-৯ লঞ্চে থাকা একাধিক যাত্রী জানান, ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে দিনে ও রাতে কর্ণফুলী, পুবালী ও দোয়েলপাখিসহ কয়েকটি লঞ্চ নিয়মিত যাতায়াত করে। এসব লঞ্চের ক্যান্টিনে পানি, কোমল পানীয়, চা, কফি, বিস্কুট থেকে শুরু করে সাধারণ খাবার পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের গায়ে উল্লেখিত মূল্যের চেয়েও বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক কাপ রং চা ১০ থেকে ১৫ টাকা, দুধ চা ২০ থেকে ২৫ টাকা, ২০ টাকার পানির বোতল ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, ১০ টাকার চিপস ২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া দুপুর ও রাতের সাধারণ মানের খাবারও দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দীর্ঘ নৌপথ হওয়ায় বাধ্য হয়েই এসব খাবার কিনে খেতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ইলিশা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী আবদুস সালাম বলেন, “লঞ্চ চলাচলের সময় বাইরে থেকে কিছু কেনার সুযোগ থাকে না। তাই ক্যান্টিনের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। এটা ছোটখাটো ডাকাতির মতো।”

ঢাকা থেকে ভোলাগামী যাত্রী শোভন বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, “সকালে ৮টার লঞ্চে ভোলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই। দুপুরে দোয়েলপাখি লঞ্চের ক্যান্টিনে খাবার খেতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। ভাতের প্লেট ৪০ টাকা, মুরগির মাংস ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, ছোট মাছ ও পোয়া মাছের এক পিস ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং ছোট এক বাটি ডালের দাম রাখা হয়েছে ৫০ টাকা। দাম বেশি নেওয়ার প্রতিবাদ করলে ক্যান্টিন কর্মচারী ও স্টাফরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।”

যাত্রীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে বছরের পর বছর ধরে এই অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রতিদিন শত শত যাত্রী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সচেতন যাত্রীরা নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত মনিটরিং, প্রতিটি ক্যান্টিনে মূল্যতালিকা টানানো এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।

এ বিষয়ে ভোলা বিআইডব্লিউটিএ’র নদীবন্দর সহকারী পরিচালক (বওপ) নির্মল বাবুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “লঞ্চের ক্যান্টিনে অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধে খাদ্যপণ্যের নির্ধারিত মূল্যতালিকা টানিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দ্রুত নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া যাত্রীদের সঙ্গে ক্যান্টিন কর্মচারী বা লঞ্চ স্টাফদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে জেলার অন্যান্য নৌরুটের লঞ্চগুলোতেও একই ধরনের অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যাত্রীসেবার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৪:৪৭   ১২০ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অপরাধ’র আরও খবর


চরফ্যাশন-বেতুয়া-ঢাকা নৌরুটে ‘রোটেশন’ প্রথা বাতিলের দাবি, নৌ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ
বোরহানউদ্দিনে চুরির রহস্য উদঘাটন: প্রধান দুই আসামিসহ চোরাই মালামাল উদ্ধার
বোরহানউদ্দিনে ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ
মিতু হত্যা নয়, আত্মহত্যা দাবি স্বামীর স্বজনদের, সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বানে সংবাদ সম্মেলন
তজুমদ্দিনে জেলেদের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫
ভোলার আলোচিত মিতু হত্যার তদন্ত চলমান, ফেইজবুকে ভুল তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান পুলিশ সুপারের
সার্টারে জয় বাংলা শ্লোগান লেখা নিয়ে মামলা মনপুরায় আরও এক ছাত্রলীগ নেতা
বোরহানউদ্দিনে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক
চরফ্যাশনে সিএনজি সিন্ডিকেটের নৈরাজ্য: অতিরিক্ত ভাড়ায় জিম্মি সাধারণ যাত্রী
লালমোহনে ৬ দিন পর নিখোঁজ ক্যান্টিন বয়ের মরদেহ উদ্ধার



আর্কাইভ