
আরিফ পণ্ডিত, বোরহানউদ্দিন।।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসবে চরাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ৯টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু তোলায় শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে কয়েক হাজার কৃষক পরিবারের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়েছে। এর মধ্যে হাসের চর এলাকা এখানে ৫টি ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছেন সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ফাইজুল ইসলাম, কাচিয়ার মফিজ, সুতা নুরনবী, নুরু ড্রেজার এবং আল আমিন মোল্লা।
গঙ্গাপুর ও চর বাগমারা এই এলাকায় আরও ৪টি ড্রেজার সক্রিয় রয়েছে, যা বিরতিহীনভাবে নদীর তলদেশ খুঁড়ছে। বালু তোলার ফলে নদীর তলদেশে গভীর গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে তীরের মাটি ধসে পড়ছে। বিশেষ করে চর লতিফ ও চর বাগমারা এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদী গ্রাস করে নিচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “একদিকে নদী ভাঙছে, অন্যদিকে ড্রেজার থামানোর কেউ নেই। আমরা চরের মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াব? আমাদের দেখার যেন কেউ নেই।”প্রভাবশালী বালু খেকো চক্র এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে অবিরত । মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চললেও ড্রেজার সিন্ডিকেট থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস মাঝেমধ্যেই অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও ড্রেজার আটক করছেন। তবে অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এদিকে নদী রক্ষায় নিয়োজিত কোস্ট গার্ডের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোস্ট গার্ড কঠোর না হলে এই ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়।
পরিবেশবিদরা বলছেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু তুললে নদীর গতিপথ বদলে যায় এবং ভারসাম্য নষ্ট হয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভোলার মানচিত্র থেকে বেশ কিছু চরাঞ্চল চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণ এই চরাঞ্চলগুলোকে বাঁচাতে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও নিয়মিত টহলের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ সময়: ২:০৯:০৪ ২৭১ বার পঠিত