তজুমদ্দিনে বোরো ধানের বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি, দাম নিয়ে শঙ্কা

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » তজুমদ্দিনে বোরো ধানের বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি, দাম নিয়ে শঙ্কা
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬



---

হেলাল উদ্দিন লিটন, তজুমদ্দিন ॥

ভোলার তজুমদ্দিনে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে এবার হেক্টরপ্রতি ফলন গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতেই ধানের শীষ ভারী হয়ে নুয়ে পড়েছে। কৃষকরা বলছেন, সময়মতো সার ও কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাই তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে ভালো ফলনের আনন্দের মাঝেও কৃষকদের মনে শঙ্কা রয়েছে ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও বাজারে দাম প্রত্যাশার তুলনায় কম। কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ব্রি ধান উপশী ৭৪, ১০১, ১০২, ১১৪, বিনা ধান ১৯, ২৪, ২৫ হিরাধানসহ স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের চাহিদামত বিভিন্ন প্রজাতির ধান চাষ করেন। উপজেলায় চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ছিলো ২হাজার ৫৮০ হেক্টর, চাষাবাদ হয়েছে ২ হাজার ৬শত হেক্টর যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ২০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষাবাদ হয়েছে। উপৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২০ হাজার ৮শত মেট্টিক টন। যেহেতু ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে সেহেতু লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট দফতর।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে যন্ত্রের সাহায্যে ধান কাটছেন, যার খরচও কম নয়। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও সার-কীটনাশকের উচ্চমূল্য যোগ হয়ে মোট খরচ আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইব্রাহিম বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়েছি। আশা করছি, কৃষকরা ভালো ফলনের সুফল পাবেন। আগামী ১০/১২ দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সব ফসল ঘরে তুলতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলে বাজারে দামের স্থিতিশীলতা আসবে। কৃষকদের যেন ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।

এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু করা হলে তারা ন্যায্য দাম পাবেন এবং লোকসানের আশঙ্কা কমবে। সব মিলিয়ে, বাম্পার ফলন কৃষকদের মাঝে আশার সঞ্চার করলেও বাজারদর ও উৎপাদন খরচের চাপ তাদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:০৭:৫৪   ৯৭ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অর্থনীতি’র আরও খবর


ইলিশ উধাও, জলবায়ু পরিবর্তনকে দুষছেন গবেষকরা
ভোলায় কোরবানিকে ঘিরে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত খামারিরা, ভারতীয় গরু নিয়ে দুশ্চিন্তা
ঝড়-বৃষ্টিতে ভোলায় কৃষকদের স্বপ্ন ডুবে আছে পানিতে, ক্ষতি ২১ কোটি টাকা
গো-খাদ্যের চড়া দামে লাভ নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা
ভোলায় কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘জমিদার’
তজুমদ্দিনে বোরো ধানের বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি, দাম নিয়ে শঙ্কা
চরফ্যাশনে কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি
পানি নিষ্কাশনের অভাবে ২ কোটি টাকার ফসল নষ্ট: বাপ্তায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানববন্ধন
ভোলায় ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও স্থানীয় বাজারে দাম চড়া
ভোলায় বৈশাখী ঝড়ে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি



আর্কাইভ