
ছোটন সাহা ॥
স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে পাল্টে গেছে ভোলার প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য স্কুলরফিডিং অনেকটাই আর্শিবাদ বলে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। স্কুল ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আর পড়ালেখায় আগ্রহী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
এ কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে যেমন ঝড়ে পড়া রোধ হবে অন্যদিকে শিক্ষায় মনোযোগী হবেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
খোজ নিয়ে জানা গেল, কিছুদিন আগেও ভোলার গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে ছিলো শিক্ষার্থী স্বল্পতা। স্কুলে ভর্তি হলেও নিয়মিত স্কুলে আসা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো খুবই কম। খাবার সংকটে স্কুলমুখী শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়তো। এমন পরিস্তিতিতে পড়ালেখা আগ্রহ কম থাকায় ঝড়ে পড়া এবং অঅভিভাবতদের সচেতনতার অভাবে ঝড়ে পড়া ছিলো নিত্যদিনের ঘটনা।

তবে জেলার দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন ও মনুরায় চালু হওয়ায় এখন আর সে চিত্র নেই। এখন ক্লাসে ফিরছেন শিক্ষার্থীরা। স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু হওয়ার ফলে ফের স্কুলমুখী হতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।
কয়েকজন শিক্ষার্থীরা বলেন, আগে স্কুলে খাবার পেতাম না, প্রচুর ক্ষুদা লাগতো কিন্তু এখন স্কুল থেকে টিফিন দেয়, আমরা নিয়মিত স্কুলে আসি।
গত ২৯ মাস জেলার চার উপজেলার ৪১৫ টি বিদ্যালয়ে চালু হওয়া এই স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি মনোযোগী হচ্ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, এমনটাই বলছেন শিক্ষকরা।
দৌলতখান উপজেলা চরগোমানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলমুখী শিক্ষার্থীদের কোলাহল, আগে এ বিদ্যালয়ে উপস্তিতি কম ছিলো এখন কিছুটা বেড়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানালেন, সরকারের স্কুল ফিডিং চালু হওয়াতে শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হচ্ছেন।
এদিকে বর্তমান সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ সকল স্কুলে ছড়িয়ে দেয়া গেলে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝড়ে পড়া রোধ কমবে আর স্কুলগামী শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়বে। এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, এমন উদ্যোগ চালু হওয়াতে গ্রামের শিক্ষার্থীরা বেশি উটকৃত হচ্ছে। বিষয়টি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
দৌলতখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদ উদ্দিন বলেন, স্কুল ফিডিং চালু হওয়াতে ঝড়ে পড়া রোধ হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী সংখ্যাও বাড়বে।
জানা গেছে, ভোলার চারটি উপজেলায় সরকারের এই স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে জিজেইউএস। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন বলেন, স্কুল ফিডিং একটি সময় উপযোগী উদ্যোগ। স্কুলে স্কুলে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ায় স্কুলমুখী শিক্ষার্থী বাড়ছে।
জেলার চার উপজেলার ৪১৫টি বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। যেখানে ৫২ হাজার ৭২৭জন শিশু বিরতীর সময়ে ডিম, কলা ও রুটিসহ পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সময়: ০:৪৯:৪৯ ৭৯ বার পঠিত