
আরিফ পন্ডিত, বোরহানউদ্দিন ॥
ভোলার বোরহানউদ্দিনে মমতাজ উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে জখম করার মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে স্কুলে ক্লাস নিচ্ছেন অভিযুক্ত এক শিক্ষক। মো. নজরুল ইসলাম বাছেদ নামের ওই শিক্ষককে স্কুল চলাকালীন গ্রেফতারের নির্দেশ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মামলার বাদী।
মামলার এজাহার ও বাদী সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ রাতে উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাটামারা ৮নং ওয়ার্ডের মাঝি বাড়ি এলাকায় মমতাজ উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। আসামীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে বৃদ্ধের দুই পা ও ডান হাতের হাড় ভেঙে দেয়। পরবর্তীতে তাকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকসে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোলা হাসপাতালে রেফার করেন। সেখান থেকে ওই বৃদ্ধাকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকা উমেকা একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে নিয়ে যান। সেখানেও চিকিৎসকরা শেষ আশাটাও ছেড়ে দেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান, নিরাশা হয়ে ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে ওই বৃদ্ধ মুমূর্ষু অবস্থায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকসে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি মামলা (জি.আর-৫৯/২০২৬) দায়ের করা হয়।
ইউএনও বরাবর দেওয়া আবেদনে বাদী আকবর হোসেন উল্লেখ করেন, মামলার ৭নং আসামী মো. নজরুল ইসলাম বাছেদ উত্তর পক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। তিনি এর আগেও একটি মামলায় (জি.আর-১৯/৯৮) দীর্ঘ ৮ বছর জেল খেটেছেন। জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় তিনি বৃদ্ধ মমতাজ উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। বর্তমানে ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নিয়মিত স্কুলে ক্লাস নিচ্ছেন।
বৃদ্ধের ছেলে ও মামলার বাদী আকবর হোসেন বলেন, “আমার পিতাকে যিনি হত্যার চেষ্টা করেছেন, তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নিয়মিত স্কুলে ক্লাস নিচ্ছেন। সকালে গোপনে স্কুলে এসে শিক্ষক হাজিরায় স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। আসামী প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি আরও জানান, স্কুল থেকে আসামীকে গ্রেফতারের বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমতির জন্য তিনি ইউএনও’র কাছে আবেদন করেছেন।
ভুক্তভোগীর আবেদনটি গ্রহণ করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য (ঋড়ৎ ঃধশরহম ধপঃরড়হ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।ইতোমধ্যে ৪ নাম্বার আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উত্তর পক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ২৬ তারিখ পর্যন্ত সে নিয়মিত ক্লাস করেছেন। ওই দিনই স্কুলে পুলিশ এসেছিল, তখন আমি জানতে পারি সে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী।
উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বাছেদকে শিক্ষা অফিস কর্তৃক কোনো ছুটি দেওয়া হয়নি।
এদিকে একজন শিক্ষক হয়েও বারবার সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত থাকা এবং পরোয়ানা মাথায় নিয়ে শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ০:১৮:১৬ ৯৫ বার পঠিত