
মনপুরা প্রতিনিধি ॥
ভোলার মনপুরা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিজন কৃষ্ণ খরাতী চেক জালিয়াতি মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে কর্মস্থলে দুই সপ্তাহ ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়াও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারী টাকা আতœসাৎ, বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আতœসাৎসহ নানান দুর্ণীতির অভিযোগ রয়েছে।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আবু মুছা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিজন গত দুই সপ্তাহ ধরে অফিস করছেন না। কোন ধরনের পূর্বানুমোদিত ছুটি বা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি বর্তমান কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। বিষয়টি জেলা অফিসকে জানানো হয়েছে।
এইদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় উপজেলা পর্যায়ে অনেক কাজ আটকে আছে বলে জানান ইউএনও।
জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার পিআইও দায়িত্বে থাকার সময় নলছিটি ব্যবসায়ী জাহিদের কাছ থেকে ভুয়া চেক মারফত ৩০ লাখ টাকা ধার নেন তিনি। পরে ওই ব্যবসায়ী ব্যাংকে টাকা না পেয়ে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিআইও বিজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যবসায়ী জাহিদ। যার মামলা নং-২৩৭৮/২০২৪।
বাদীপক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট আজাদ রহমান জানান, শুধু আমার মক্কেল নয়, নলছিটি উপজেলার এই রকম অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বিজন। ২০২৪ সালে আদালত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারী করে।
এছাড়াও বিজন নলছিটির শিবেশ্বর রায়, কায়কোবাদ ও মাইনুল ইসলাম নামে তিন ব্যক্তির চেক জালিয়াতি মামলার আসামীও পিআইও বিজন বলে জানান এ্যডভোকেট আজাদ রহমান।
এইদিকে নলছিটি উপজেলার ঠিকাদার হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে জানান, সরকারি কাজ চাকরী পাইয়ে দেওয়ার ঠিকাদার ও সাধারন মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন পিআইও বিজন। এমনকি তার ছেলের কাছ থেকে চেকের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা ধার নেন বিজন। কিন্তু সেই টাকা ফেরত না দিলি তিনি মামলা করেন। সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালত সমন জারি করে।
সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎঃ
নলছিটি উপজেলার পিআইও দায়িত্বে থাকার সময় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে ৩০২টি ঘরের মধ্যে ১২৮টি ঘরের টাকা বরাদ্ধ পায় উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু পিআইও বিজন ১২৮ টির ঘরের মধ্যে ৫৫ টি ঘর না করে পুরো টাকা আতœসাৎ করে। পরে বিভাগীয় কমিশানারের নজরে আসলে ২০২৩ সালে বিজনকে ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা উপজেলা প্রশাসনের ব্যাংক একাউন্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিভাগীয় কমিশনার। পরে পিআইও বিজন উপজেলা প্রশাসনের একাউন্টে টাকা জমা দেন পিআইও বিজন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর পিআইও বিজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মনপুরা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্বে যোগদান করেন বিজন কৃষ্ণ খরাতী। এরপর গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
এই ব্যাপারে মনপুরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিজন কৃষ্ণ খরাতীর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি অফিসে অনুপস্থিত থাকায় অফিসে গিয়ে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আবু মুছা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতী গত দুই সপ্তাহ ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছে। তার তিনটি মুঠোফোন নাম্বার বন্ধ রয়েছে। তিনি না থাকায় উপজেলার অনেক কাজ আটকে আছে। বিষয়টি তিনি জেলা পর্যায়ে অবহিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, নলছিটি থেকে তার ব্যাপারে অনেকে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন। শুনেছি তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে। তিনি গ্রেফতার হলে তাকে বরখাস্ত করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৮:২৫ ১০২ বার পঠিত