
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি চরে এক নারী ও তার শিশু কন্যাকে চার দিন ধরে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ২০২১ সালে এক রাতে তাকে, তার দুই কন্যা এবং বৃদ্ধা মাকে বসতঘর থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উপজেলার চরমোজাম্মেল এলাকার মুক্তিযোদ্ধা বাজার সংলগ্ন একটি ব্লকের কক্ষে তাদের কয়েক দিন অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাকে এবং তার শিশু কন্যাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে স্বজনরা প্রশাসনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে মামলার মূল বিষয় আড়াল করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, ২০২২ সালে তার বসতঘর ভাঙচুর ও গবাদিপশু লুটের পর তাকে চর এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে তিনি লক্ষ্মীপুরে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধান অভিযুক্ত নীরব এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে অভিযুক্ত নীরব তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি চরে সততার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশের আহ্বান জানান।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তজুমদ্দিন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ স¤পাদক সাংবাদিক সাদির হোসেন রাহিম সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের স্বজনদের নেতৃত্বে একটি চক্র মেসেঞ্জার গ্রুপে তার বিকৃত ছবি ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, সত্য গোপন এবং সংবাদ প্রকাশে বাধা দিতেই এ অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মূল অভিযুক্তদের পাশাপাশি সাইবার হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১:৫৭:৪২ ১১২ বার পঠিত