
আদিল হোসেন তপু ॥
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ভোলার মেঘনা নদীর পাড়ে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। নতুন বছরকে বরণ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন সবাই।
নদীর শীতল বাতাস আর খোলা আকাশের নিচে বৈশাখী উৎসব যেন পেয়েছে ভিন্নমাত্রা। কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউবা বসে আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা দলবেঁধে নৌকায় করে সাহস করে নদীতে ঘুরতে বের হয়েছেন। শিশুদের কোলাহল আর তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মেঘনা পাড়ের শাহাবাজপুর পর্যটন কেন্দ্র এলাকা।
এদিকে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে স্থানীয়ভাবে বসেছে ছোটখাটো দোকানপাট ও ভ্রাম্যমাণ স্টল। শিশুরা এখনাকার বিভিন্ন রাইডে উঠে এতে উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছেন।
তবে ভোলা সদর থেকে তুলাতুলি যাওয়ার রাস্তা খারাপা থাকায় মারাত্মক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে নদীর পারে ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীদের। তবুও সবকিছু ছাপিয়ে বাংলা নববর্ষের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নদীর পাড়ে মানুষের এই ঢল যেন এক অনন্য দৃশ্য।
ভোলা সদর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া সুমি জানান,পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালির জন্য একটা ঐতিহ্য। প্রতিবারের মতো এবারও পহেলা বৈশাখ নদীর পাড়ে ঘুরতে আসছি। খুব ভালো লাগছে। সকালে বের হতে পাড়িনি প্রচন্ড গরমের কারণে। যত গরম পুরুক না কেন মেঘনাপাড়ে আসলে এমনিতেই মন ভালো হয়ে যায়।
নদীর পাড়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আশা শ্রাবনীদাশ বলেন, নদীর পাড়ে তো সব সময় ভালো লাগে। পহেলা বৈশাখ খুব স্পেশাল। কারণ একটি বছরের মানুষের অভিমান, নাপাওয়া অনেক কিছু।

সবকিছুকে বিদায় জানিয়ে নতুন আরো একটি বাংলা বছর শুরু। আর নদীর পাড়ে আসলে একটা ভালোলাগা একটা শান্তি অনুভূতি হয়। নদীর সাথে মানুষের একটা মিতালি এটা ফুটে ওঠে। শিক্ষনিবেশ আইনজীবী অভি জানান, পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন।
দিনটি উদযাপনের সকালে রুই মাছ দিয়ে পান্তা ভাক খেলাম। যেহেতু ইলিশ খাওয়া নিষিদ্ধ। বিভিন্ন রকমের ভর্তা ছিলো খাবারের ম্যানুতে। আর বিকালে বৌকে নিয়ে নদীর পারে ঘুরতে আসলাম। ভালোই লাগছে।

শুধু মেঘনার শাহবাজপুর পর্যটন কেন্দ্র নয় ভিড় ছিলো ভোলার সব পর্যটন স্পট গুলোতে। যেখানে মানুষ গরমের মধ্যে ইকটু প্রশান্তির জন্য ছুটে আশেন। তাই ভোলার দর্শনার্থীরা মনে করেন পরিকল্পিতভাবে ভোলার মেঘনা-তেতুঁলিয়া নদীর পাড় গুলোতে যদি উন্নয়ন করা সম্ভব হয় তাহলে দেশী-বিদেশী দর্শনার্থীরা ছুটে আসবে ভোলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:৩৮:১৪ ১২৪ বার পঠিত