
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ভোলার সদর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর ক্রয়কৃত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে বসতঘর ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টার সময় ভোলা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর নোয়াবাদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে বিবাদী করে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভোলা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চরনোয়াবাদ মৌজায় এসএ ১৮৬৩ দাগের ৩.৯৯ শতাংশ জমি ২০১৮ সালে ক্রয়সূত্রে মালিক হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালে তিনি ভোলা পৌরসভার মাধ্যমে উক্ত সম্পত্তির দখল বুঝে পান এবং সেখানে টিনের ঘর উত্তোলন করে ভোগদখল করে আসছিলেন। যার হোল্ডিং নং-৩৯/১। মেহেদী হাসান ব্যবসার সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করায় স্থানীয় লোকজন জমিটি দেখাশোনা করতেন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে ভূমিদস্যু মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ উল্ল্যাহ টুলু, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, মোঃ আবুল হাসনাত টিটুসহ একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা জমিটি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে থাকা টিনের ঘরটি ব্যাপক ভাঙচুর করে। আজাদ, টুলু ও মনির গংরা ভাংচুর করা ঘরসহ আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়।
ঘটনার সময় স্থানীয়রা ও কেয়ারটেকাররা বাধা দিতে গেলে আজাদ, টুলু ও মনির গংরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আজাদ, টুলু ও মনির গংরা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে এই সম্পত্তি তারা জোরপূর্বক দখল করে নেবে। হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি ক্রয় করে ভোগদখল করছি। কিন্তু আজাদ, টুলু ও মনির গংরা ভূমিদস্যু প্রকৃতির হওয়ায় তারা আমার সহজ-সরলতার সুযোগ নিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। আমি এবং আমার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” এই বিষয়ে আমি ভোলা সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি প্রশাসনের কাছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আজাদ, টুলু ও মনির গংদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা করেছেন। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১:৫৮:৫৫ ৯০ বার পঠিত