
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঈদে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীবাহী বাসের চাপ ও ফেরি সংকটের কারনে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটেই নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার তরমুজ। তরমুজ বোঝাই করে ট্রাকগুলো ঘাটে এসে তিন থেকে চার দিন অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে না পেরে লোকশানের মুখে পড়েছেন তরমুজ ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালকরা। তবে দুই এক দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধের আশ^াস দিয়েছেন ঘাটে দায়িত্বরত বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা।
ভোলার ইলিশা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ঘাটে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ লাইন। এর মধ্যে বেশীরভাগ ট্রাকেই তরমুজ বোঝাই করা। এর মধ্যে অনেক ট্রাক তিন থেকে চার দিন আগে এসেও এখনো পারাপার হতে পারছেন না। এতে করে ট্রাকে থাকা তরমুজ ও কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার পথে।
ট্রাকচালক ও তরমুজ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদে যাত্রীবাহী বাসের চাপ ও ফেরি সংকটের কারনে তারা ঘাটে বসে আছেন। দুই থেকে তিন দিন ঘাটে অপেক্ষা করে এক দিকে থাকা খাওয়ায় কষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে ট্রাকে থাকা তরমুজ নষ্ট হয়ে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
ট্রাকচালক মো. ফিরোজ জানান, গত তিন দিন আগে চরফ্যাশনের চরকলমি থেকে দুই হাজার ২০০ তরমুজ নিয়ে কুমিল্লা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইলিশা ফেরিঘাটে এসেছেন। কিন্তু এখনো ফেরি পার হতে পরেননি। ফেরির লোকজন ফেরিতে শুধু যাত্রীবাহী বাস ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি উঠতে দিচ্ছেন না। তিন ঘাটে বসে থেকে তার গাড়িতে থাকা অধিকাংশ তরমুজ থেকে পানি ঝড়ছে। এতে করে ব্যবসায়িরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা ভাড়ার টাকাও পাবেন না।
ট্রাকচালক আবুল হোসেনসহ ৭-৮জন চালক জানান, একদিকে ফেরি সংকট অপরদিকে ঈদের যাত্রীবাহী বাসের চাপে তারা তিন-চারদিক অপেক্ষ করেও ফেরি পারাপার হতে পারছেন না। ফেরিতে শুধু বাস উঠাচ্ছে। অথচ ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় বসে থেকে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকার তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ফেরিতে উঠতে ঘাট ইজাদারকেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে তাদের। বাড়তি টাকা না দিলেও ইজারাদারের লোকজনের হাতে মাঝে মধ্যেই চালকদেরকে মারধরের শিকার হতে হয়। বিআডব্লিউটিসির উচিত ছিলো ঈদ উপলক্ষে এখানে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো। কিন্তু তারা সেটিও করেনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসায়িরা লোকশানের মুখে পড়বে। এতে করে তারা ট্রাক ভাড়াও দিতে পারবে না। তাই উচিত এ ঘাটে ফেরি সংখ্যা বাড়ানো এবং যাত্রীবাহী বাসের সাথে দুই একটি করে তরমুজের ট্রাক পারাপার করা।
তরমজু চাষী মো. আলাউদ্দিন জানান, ধারদেনা করে এবছর তিনি তরমুজ চাষ করছেন। ক্ষেতে তরমুজের দাম বলেছে তিন লাখ টাকা। বেশী দাম পাওয়ার আশায় তিনি নিজেই তরমুজ নিয়ে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম রওনা হয়েছেন। দুই দিন ধরে ঘাটে বসে থেকেও পার হতে পারছেন না। কবে পার হতে পারবেন তাও এখনো নিশ্চিত না। এ অবস্থায় ট্রাকে থাকা তরমুজ থেকে পানি বের হচ্ছে। আর এক দুই দিন থাকলে এ থাকলে এ তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিইটিসি) ভোলার ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. কাওছার হোসেন বলেন, ঈদ পরবর্তীতে কাঁচামাল ও তরমুজের গাড়ির ব্যাপক চাপ রয়েছে। এছাড়াও ঈদের কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীবাহী পরিবহনেরও চাপ রয়েছে। যাত্রীবাহী বাসগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে পন্যবাহী ট্রাকগুলো কম পাড় হচ্ছে। যার কারনে ঘাটে তীব্র যানজট লেগে আছে। এ সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফেরি বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। একটি ফেরি আসার কথা রয়েছে। অপরদিকে এ রুটে চলাচলকারী চারটি ফেরির মধ্যে একটি ফেরি বিকল থাকায় সেটিও মেরামতের কাজ চলছে। এ ফেরিগুলো আসলে যানজট কমে যাবে।
তিনি আরো বলেন, ঘাটে বিআইডব্লিউটিসি শুধু ফেরি ভাড়া নিয়ে থাকে। এখন ইজারাদার কি করে সেটি আমাদের জানা নেই। তবে অনেক সময় গাড়ির অতিরিক্ত চাপ থাকলে অনেক চালক আগে যাওয়ার জন্য ইজাদারের লোকজনকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকে। আর যারা টাকা দেয় না তারা এ বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তুলে। এখানে আমাদের কেউ জড়িত না।
বাংলাদেশ সময়: ০:৫২:৪৮ ১২৩ বার পঠিত