
আদিল হোসেন তপু ॥
প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৮ বছরেও পূর্নাঙ্গ রুপ পায়নি ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি। পাঠাগারে কিছু বই থাকলেও নেই বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের কোন স্মৃতি চিহ্ন। এমনকি মুক্তিযোদ্ধার ইতিহাস সম্বলিতও কিছু নেই। অযতœ অবহেলা আর সঠিক পরিকল্পনার অভাবে পর্যায়ক্রমেই এ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দর্শনার্থীরা। ফলে দিন দিন আকর্ষন হারাচ্ছে এই গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটি। তাই সময় উপযোগী কার্যক্রম হাতে নিয়ে জাদুঘরটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় এই বীরের স্মৃতি ধরে রাখতে উদ্যাগ নেওয়ার দাবী স্থানীয়দের।
প্রানের আবেগ পুঁজি করে শত্রুর মরনস্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছেন বাংলার দামাল ছেলেরা। তাদের আত্মত্যাগে বাংলার আকাশে উড়ে লাল সবুজের পতাকা। দেশের তরে যারা জীবন বিলীয়ে দিয়েছেন তাদেরই একজন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল। তার আত্মত্যাগ স্বরন রাখার জন্য স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরে ২০০৮ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৭জন বীরশ্রেষ্ঠ’র গ্রামে তাদের নামে গ্রন্থাগার ও স্মৃতিজাদুঘর নির্মান করা হয়।
মহান এই মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ বীরত্বের স্বীকৃতি পাওয়া বীরশ্রেষ্ঠদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য ভোলার সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে গড়ে তোলা হয়েছে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বীরশ্রেষ্ঠদের আত্মত্যাগ তুলে ধরার উদ্দেশে প্রতিষ্ঠানগুলো গড়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে জাদুঘরটি দর্শনার্থীর দেখার মতো নেই কোন স্মৃতি চিহ্ন। অবহেলা, জনবলসংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের রয়েছে বড় অভাবে।

তবে হতাশার কথা প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৮ বছরেও পূর্নাঙ্গ রুপ পায়নি ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল গ্রন্থাগার ওজাদুঘর। ভোলা শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এই জাদুঘরটি প্রথম দিকে দর্শনার্থদের কাছে আকর্ষনীয় হলেও দিনে দিনে তা কমে গেছে।
একটি মাত্র বীরশ্রেষ্ঠের ব্যবহারিত বদনা ও প্লেট ছাড়া নেই তেমন স্মৃতিচিহ্ন। এছাড়াও জাদুঘর স্বাধীনতা ইতিহাসের বিভিন্ন ছবি কিংবা ভিজুয়াল না থাকায় হতাশ দর্শনার্থীরাও। দর্শনার্থীরা ক্ষোভ নিয়ে বলছেন এই জাদুঘরে হিটলারের বই থাকলেও স্বাধীনতার ইতিহাস সম্মৃদ্ধ করে নেই তেমন বই। তাই তাদের কাছে এটি নাম মাত্র জাদুঘর হিসাবে পরিচিত।
একজন বীর শ্রেষ্ঠর নামে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে সেই বীরশ্রেষ্ঠর তেমন কোন নির্দশন নেই যা দর্শনার্থীদেরকে আকর্ষিত করে। এখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের কোন স্মৃতি চিহ্ন পর্যন্ত নেই। দুর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে এসে ফিরে যায় এক রাস হতাশা নিয়ে।
তবে দ্রুত জাদুঘরটি আধুনিকায়ন করে পর্যটকদের আকর্ষনীয় করে গড়ে তোলা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান। আর জেলা পরিষদের নির্বাহী পিন্টু বেপারী বলছেন জাদুঘর টি দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে।
ভোলার গর্ব বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নামে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগার এবং স্মৃতিজাদুঘরের আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি যথাযথ সম্মান জানাবে সরকার এমন প্রত্যাশা ভোলার সাধারন মানুষের।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৯:৩১ ৯৩ বার পঠিত