
স্টাফ রিপোর্টার।।
ভোলার দৌলতখানে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক–এর একটি শাখায় অদ্ভুত এক লেনদেনের ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন এক গ্রাহক। বেতনের টাকা তুলতে গিয়ে তিনি দেখেন, তার অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থ অ্যাপসের মাধ্যমে অন্য একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর হয়েছে। অথচ তিনি দাবি করছেন, কখনো মোবাইল অ্যাপস বা এটিএম কার্ড ব্যবহার করেননি। অভিযোগের পরও এখনো মেলেনি কোনো সমাধান।
গোলাম মাওলা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানান, তিনি কোনো গ্রাহকের কাছে টাকা পাঠাননি এবং কখনো মোবাইল অ্যাপসও ব্যবহার করেননি। তারপরও কীভাবে তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে গেল—এ প্রশ্নের উত্তর পাননি। দিশেহারা হয়ে তিনি ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করেন। শাখা থেকে প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।
গোলাম মাওলা টিবিএসকে বলেন, “আমি কখনো মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করিনি। এমনকি এটিএম কার্ডও ব্যবহার করি না। বাসার কাছে ব্যাংক হওয়ায় নিয়মিত চেকের মাধ্যমে বেতনের টাকা তুলি। গত ২ মার্চ টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারি, আমার টাকা অন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে চলে গেছে।”
অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী দেখা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি হাজিপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক গোলাম মাওলার ৫৫১২০১১***১১০ নম্বর হিসাবে জানুয়ারি মাসের বেতন বাবদ ২৬ হাজার ৭৬০ টাকা জমা হয়। এ হিসাব থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পুবালী ব্যাংক–এর গোপালগঞ্জ শাখার একটি এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে বিএফটিএন-এর মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়।
একই দিনে গোলাম মাওলার অ্যাকাউন্ট থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকা একই হিসাবে স্থানান্তর হয়। পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি তার অ্যাকাউন্ট থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এলাকার এক স্টেশনারি ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বরে ৫০ টাকা রিচার্জ করা হয়।
রিচার্জকৃত নম্বরে যোগাযোগ করলে হারুন অর রশিদ নামে এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। তিনি টিবিএসকে বলেন, “আমি তো প্রায়ই দোকানে গিয়ে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করি। কখন আমার মোবাইলে এই টাকা ঢুকেছে, তা জানি না।”
দৌলতখান শাখার ব্যবস্থাপক নেছার উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, “আমাদের শাখায় গোলাম মাওলা নামে একটি টিচার্স সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। গত ২ মার্চ তিনি টাকা তুলতে এসে দেখেন তার অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। পরে স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রূপালী ব্যাংকের অ্যাপস ব্যবহার করে বিএফটিএন-এর মাধ্যমে টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রাহক দাবি করেছেন, তিনি টাকা পাঠাননি। তিনি আমাদের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ের আইটি বিভাগে জানানো হলে তারা জানান, গ্রাহকের অ্যাপস থেকেই লেনদেন হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের সময় তার মোবাইলে বার্তা পাঠানো হয়েছে। আমাদের পক্ষে এখন এই টাকা উদ্ধার করা সম্ভব নয়।”
শাখা ব্যবস্থাপক জানান, পূবালী ব্যাংকের গোপালগঞ্জ শাখার অধিনে গোপালগঞ্জ এজেন্টব্যাংক এর গ্রাহহ বৃষ্টি গোষ এর অ্যাকাউন্টে দুটি লেনদেন টাকা গেছে। সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা কাজী মৃনাল মাহমুদ জানান, বৃষ্টি ঘোষ এর ১৯০২১০১১৬৭৭৪৪ এই অ্যকাউন্টে প্রায়ই টাকা যোগ হয়। তিনি সাধারণত ব্যাংকে এসে টাকা তোলেন না; এটিএমের মাধ্যমে লেনদেন করেন। মেনেজার ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রায়ই তার অ্যকাউন্টে টাকা আসে কিছুক্ষণ পরই অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়।
তবে গোলাম মাওলার দাবি, জানুয়ারি মাসে বেতন জমার সময় তিনি মোবাইলে বার্তা পেয়েছিলেন। এরপর তার অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফা টাকা গেলেও কোনো বার্তা পাননি।
রুপালী ব্যাংকের আইটি বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি, প্রায়ই বিভিন্ন গ্রাহকের এমন অভিযোগ পাই, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তথ্য পর্যালোচনা করে দেখি গ্রাহকেরই দুর্বলতা। গ্রাহক ফেসবুকে কোন না কোন লিংকে যুক্ত হয়ে নিজের মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ হারান পরবর্তিতে তার পুরো মোবাইলের তথ্য নিয়ে যায় প্রতারক চক্র।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অ্যাপস সুবিধা নিরাপত্তা খুবই স্ট্রং আপনাদের দুর্বল হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আইটিগত দিক থেকে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। তবে এত এত অভিযোগ দেখা খুবই কঠিন। গ্রাহকদের আরও সচেতন হতে হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২১:৫৮:২৪ ৩৩৭ বার পঠিত