
আদিল হোসেন তপু ॥
জাটকা সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও খাদ্য সহায়তার চাল পায়নি জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা এই সময় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিন কাটছে তাদের। আর মৎস বিভাগ বলছে সরকার ভাবে বরাদ্দ পেলে দেওয়া হবে খাদ্য সহায়তা।
নদী, মাছ আর জাল এই নিয়ে জেলেদের জীবন। সেই জীবন থমকে আছে ৩দিন ধরে। দুই মাস ভোলার দুটি মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। তাই তো নদীতে মাছ ধরে নয় ভোলার মেঘনা পাড়ের জেলে বাবুল এর দিন কাটছে ছেড়া জাল বুনে। ২০ বছর ধরে নদীতে মাছ ধরলেও সরকারি তালিকায় নাম উঠেনি তার। এমনকি পাইনি কোন খাদ্য সহায়তা। এমন চিত্র এখন মেঘনাপাড়ে সব জায়গায়।
নিষেধাজ্ঞার এইসময়ে খাদ্য সহায়তা হিসাবে নিবন্ধিত জেলেদের চার মাসের জন্য ৪০ কেজি করে বিশেষ ভিজিএফ এর মাধ্যমে ১৬০ কেজি চাল দেওয়া হয়। কিন্তু এর বাহিরে থেকে যাচ্ছে বড় একটি অংশ। তালিকায় নাম নেই অনেকের। বছরের পর বছর মাছ ধরেও এখন নিবন্ধনের আওতায় আসেনি অনেক জেলে।তাইতো তাদের ভাগ্যে জোটেনা সরকারি কোন সহযোগিতা। এছাড়া নির্দিষ্ট সময় চালনা পাওয়ার অভিযোগ জেলেদের। পাশাপাশি অভিযানের এই সময় এনজিওর কিস্তি বন্ধ রাখার দাবি দীর্ঘদিনের।
আর মৎস্য বিভাগ বলছে সরকার ভাবে বরাদ্দের চাল পেলে খুব দ্রুত বিতরন করা হবে।
এরইমধ্যে মৎস্য বিভাগের অভিযানে প্রায়১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।
ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্য দেশের ৬টি অভায়শ্রমে মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের জন্য সব ধরনের মাছ স্বীকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ভোলার দুটি অভায়াশ্রমের ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনার ৯০ কিলোমিটার ও চর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।
এ সময় নদীতে কোনো জাল ফেলতে পারবেন না জেলেরা।
এই দুই মাস যাতে কোন অসাধু জেলে মাছ ধরতে না পারে সেজন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ নেতৃত্ব প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভোলা নিবন্ধিত জেলের এই দুই মাস জাটকা ধরা বন্ধে ৯০ হাজার ২শত ১৩ জন জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি চাল সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
জেলার নিবন্ধিত এক লাখ ৬৮ হাজার জেলের মধ্যে লক্ষাধিক জেলে সহায়তা পেলেও নিবন্ধিত প্রায় ৬৮ হাজার জেলেসহ লক্ষাধিক জেলে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবে। তাই নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত জেলেদের দ্রুত সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানান মৎস্যজীবীরা।
বাংলাদেশ সময়: ২২:২১:৫৩ ৯৯ বার পঠিত