ভোলার দুই অভয়াশ্রমে ইলিশ ধরায় দুই মাসের নিশেধাজ্ঞা, জীবিকা সংকটে উপকূলের জেলেরা

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » ভোলার দুই অভয়াশ্রমে ইলিশ ধরায় দুই মাসের নিশেধাজ্ঞা, জীবিকা সংকটে উপকূলের জেলেরা
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



---

ছোটন সাহা॥

ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় শনিবার (১মার্চ) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। এতে বেকার হয়ে পড়বেন উপকূলের দুই লাখের অধিক জেলে।

যে কারণে অভান অনাটন আর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তারা। যদিও জেলে পুর্ণবাসনের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও সে চাল সটিক সময়ে সবার ভাগ্যে জুটেনা।

তাই নিষেধাজ্ঞা সময়কালেই জেলেদের মাঝে পুর্নবাসনের চাল এবং এনজিও কিস্তি বন্ধ রাখার দাবী জেলেদের।

জেলেরা জানান, গত মৌসুমে পুরো সময় জুড়ে ইলিশ সংকট থাকায় এ বছরের শুরুটা ভালো যায়নি ভোলার জেলেদের।

নদীতে ইলিশ শূন্যতায় বার বার আর্থিকভাবে ধাক্কা খেতে হয়েছে তাদের। এমন সংকটের মধ্যে আবার চলে আসছে ইলিশ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। এতে কর্মহীন হয়ে চরম অভাব অনাটনে পড়েছেন জেলেরা।

জেলে আঃ রহিম, ইলিয়াস ও মাইনুদ্দিন জানান, ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা মানতে গেলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। কারন, জেলে পেশা এবং মাছ ধরার উপর আমাদের জীবিকা। কিভাবে নিষেধাজ্ঞা সময় কাটাবো সে চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

এদিকে, জেলেদের অনেকেই এনজিও থেকে ঋন আর ধারদেনা করে জাল নৌকা গড়েছেন তবে নিষেধাজ্ঞাকালিন সময় জেলে পুর্নবাসনের জন্য চাল বরাদ্দ হলে সে চাল পৌছায়না অনেকে ভাগ্যে। তাই এনজিও কিস্তি পরিষোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত তারা। এমন বাস্তবতায় কিস্তি বন্ধ রাখার পাশাপাশি দ্রুত পুর্ণ বাসনের চাল বিতরণের দাবী তাদের।

জেলে মাইনুদ্দিন ও সবুজ বলেন, দুই মাসের জন্য কিস্তি তোলা বন্ধ রাখা হলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো, সরকারের কাছে জেলেদের কথা বিবেচনা করা হয় এবং দ্রুত বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করা হয়।

---

মৎস্য আড়ৎদার সাহাবুদ্দিন বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকার খবরে জেলে পাড়ায় তৈরী হয়েছে সংকট। শুধু জেলে নয়, একই অবস্থা মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা বান্তবায়নে ভোলার বিভিন্ন মৎস্যঘাটে জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা করেছে মৎস্যবিভাগ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা সময়ে এনজিও বিস্তি বন্ধ রাখার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

বাংলাদেশ সময়: ০:৩২:০৪   ৯০ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

অর্থনীতি’র আরও খবর


চরফ্যাশনে অবৈধ সেচ পাম্পিংয়ের প্রভাবে অকার্যকর দেড় হাজার নলকূপ
চরফ্যাশনে অবহেলার জমিতে সম্ভাবনার ফসল, সবুজের ছোঁয়ায় বদলে গেল আবাসিক এলাকা
উপকূলের চরে শ্রমিকদের পরিশ্রম, শুঁটকিতে জীবিকার আলো
নিষেধাজ্ঞার সময় কিস্তি বন্ধের দাবি কর্মহীন ৩ লাখ জেলের
ভোলার দুই অভয়াশ্রমে ইলিশ ধরায় দুই মাসের নিশেধাজ্ঞা, জীবিকা সংকটে উপকূলের জেলেরা
ভোলার গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১০৭ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
ভোলায় রমজান উপলক্ষে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, মুরগির মাংস বিক্রি শুরু
ভোলায় নলকূপ থেকে পানির পরিবর্তে বের হচ্ছে গ্যাস, এলাকায় চাঞ্চল্য
আগাম তরমুজে রঙিন স্বপ্ন দেখছে ভোলার কৃষকরা
ভোলার বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বিপাকে ভোক্তারা



আর্কাইভ