
আদিল হোসেন তপু ॥
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ভোলায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা। গত দেড় মাসে জেলায় চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় এক হাজারেরও অধিক রোগী। যাদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তিন শিশুর। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে এক বেডে ২/৩ জনকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হঠাৎ করেই শিশুদের নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়েও নার্স-চিকিৎসকদের হিমশিম অবস্থা। আর অভিভাবকদের সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসারা।
বেড সংকট থাকায় গাদাগাদি করে এক বেডে ২/৩ জন শিশুর চিকিৎসা নেয়ার এই দৃশ্যে ভোলা সদর হাসপাতালের।গেল এক সপ্তাহে রোগীর চাপে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। দিন যত যাচ্ছে ততোই বাড়ছে নিউমোনিয়া।
দিনে গরম রাতে ঠান্ডা আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় জেলা ভোলার ঘরে ঘরে বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়া রোগী। এতে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ।
সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে গেলো এক সপ্তাহে ভোলা সদর হাসপাতালে ঠান্ডা জনিত রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছে সাতশ জন। এরমধ্যে ৫শ’রও বেশি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। একই অবস্থা জেলার বাকি ৬ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ায় শিশুদের নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা।
অন্যদিকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার-নার্স। ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ৬৫ শয্যার হলেও প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ২ থেকে ৩ গুন রোগী। শয্যা সংকটে বাধ্য হয়ে এক বেডে দুই থেকে তিন জন শিশুর চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্বজনদের।
এদিকে, জেলা সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যার উন্নীত করা হলেও বাড়ানো হয়নি জনবল। তাই হঠাৎ করে রোগী বাড়ায় হিমশিম অবস্থা হাসপাতালের নার্সদের।
ভোলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. সালাউদ্দিন বলছেন, হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনে দিনে গরম আর রাতে ঠান্ডা অনূভূত হচ্ছে। তাই বাড়ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ফলে সেবা দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে রোগীর চাপ কমে আসবে বলে মনে করছেন শিশু বিশেষজ্ঞ এই ডাক্তার।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ তৈয়বুর রহমান বলেন, জেলায় জানুয়ারি থেকে নিউমোনিয়ায় মোট আকান্ত হয়েছে এক হাজারেরও অধিক রোগী। যাদের মধ্যে ঠান্ডা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩জনের। বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৫৪ জন রোগী।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:০১:১২ ৮৯ বার পঠিত