
লালমোহন প্রতিনিধি ॥
ভোলার লালমোহন উপজেলায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম মুক্তা বেগম। তিনি উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে জুয়েলের স্ত্রী।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাড়ির পেছনের বাথরুমের আড়ার সঙ্গে গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় মুক্তার লাশ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে খবর পেয়ে লালমোহন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের মা রানু বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। এটি আত্মহত্যা হতে পারে না। শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। সেই নির্যাতনের কারণেই আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে নিহতের স্বামী জুয়েল দাবি করেন, ফজরের নামাজের পর মুক্তা তার পাশ থেকে উঠে যান এবং তখন সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। পরে ঘুম থেকে উঠে তাকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পেছনের বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজনকে ডাকলে তারা মিলে তাকে নামান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২:২২:৩১ ৭১ বার পঠিত