একসময়ের অগোছালো পৌরসভা এখন যেন সভ্যতার ছোঁয়া: স্বস্তি ফিরেছে নাগরিক জীবনে

প্রচ্ছদ » জেলা » একসময়ের অগোছালো পৌরসভা এখন যেন সভ্যতার ছোঁয়া: স্বস্তি ফিরেছে নাগরিক জীবনে
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬



---

মো. বেল্লাল নাফিজ ॥

ভোলা পৌরসভা দেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও এক বছর পূর্বে উন্নয়নমূলক অবকাঠামো ও কর্মপরিবেশে নাগরিক জীবনে তেমন স্বস্তি আসেনি। যার প্রধান কারণ ছিলো শহর জুঁড়ে যানজট, ফুটপাত দখল ও পয়ঃনিস্কাশনের অভাবসহ অন্যান্য নাগরিক অসুবিধাসমুহ। বর্তমানে শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্তসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নতুন বাজার চত্বর ও সদর রোডে কদিন আগেও যত্রতত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি দাঁড় করিয়ে রাখতেন চালকেরা। কাঁচা বাজার, সদর রোডের ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা করছিলেন দখলদারেরা। এতে এসব এলাকায় তীব্র যানজট লেগেই থাকতো ভোগান্তিতে পড়ত সাধারণ পথচারীরা; ঠিকমতো হাঁটারও সুযোগ ছিল না।

এই অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। এই দৃশ্যপট এখন প্রায় বদলে গেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকা নতুন বাজার চত্বর ও সদর রোড বেশির ভাগ সময় থাকে যানজটমুক্ত। রাস্তার ওপর আর নেই যত্রতত্র অটোরিকশা বা সিএনজি। নেই ফুটপাত দখলদারদের দৌরাত্ম্য। আগের সেই যানজটপূর্ণ এলাকা যেন নতুন রূপে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

সম্প্রতি পৌরসভায় নতুন ভিডিপি’র ৩০ জন সদস্য ও এলাকাভিত্তিক ঝাড়–দার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন বাজার এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও কাঁচা বাজার, নতুন বাজারসহ বাংলা স্কুলের সামনে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি মহল্লায় বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহের জন্য অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ দেওয়ায় এখন আর যেখানে-সেখানে ময়লার স্তুপ হচ্ছে না ফলে দুর্গন্ধমুক্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন শহরে রুপ নিচ্ছে। পরিকল্পিত ও আধুনিক শহর গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে ভোলা পৌরসভাকে গুছিয়ে আনছেন পৌর প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। তাঁর পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও বাস্তবায়নে বদলে যাচ্ছে একসময়ের অগোছালো পৌরসভা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন বাজার চত্বরে আগের মতো আর রাস্তার ওপর যত্রতত্র অটোরিকশা বা সিএনজি রাখা হচ্ছে না। ফুটপাতেও নেই হকারদের দোকান।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান গত বছরের ৯ অক্টোবর পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। তিনি দায়িত্ব নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করেন, নতুন বাজারের নবনির্মিত মসজিদের সামনে নতুন অটোরিকশা স্ট্যান্ড স্থাপন করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। শহরকে পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুনমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার কাজ শুরু করেন। শহরের লাইটপোস্টে বসানো হয় নতুন লাইট। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছে নতুন ডাস্টবিন।

বাংলা স্কুল মোড় দায়িত্বরত এক ভিডিপির সদস্য শরীর হোসেন বলেন, ‘আগে নতুন বাজার চত্বর, সদর রোড আর যুগিরঘোল এলাকায় তীব্র যানজট হতো। আমরা নিজেরাই বিরক্ত ছিলাম, পথচারীরাও অতিষ্ঠ ছিলেন। প্রশাসক স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা সিরিয়াল ঠিক রেখে কাজ করছি। তাই আগের মতো আর যানজট হয় না। পথচারীরাও ঠিকমতো চলাচল করতে পারেন।’

স্থানীয় পথচারী শাহীন মিঝি বলেন, ‘আগে অটোরিকশা যত্রতত্র রাখা আর ফুটপাত দখল থাকায় চলাচলে অসুবিধা হতো। প্রশাসক আসার পর অটোরিকশা স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে, এখন আর কোনো যানজট নেই। আমরা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারি। তিনি এমন দৃশ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

নতুন বাজারের ফাস্টফুড ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে দোকানের সামনে যানজট লেগেই থাকত। ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারিনি। কিন্তু এখন ফুটপাত উচ্ছেদ এবং ভিডিপির শৃঙ্খলা আনার কারণে আর যানজট হয় না। ব্যবসাও ভালো হচ্ছে।’ ডিম ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও চাল ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস বলেন, ‘শহরে যানজট কমে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা নেই। ব্যবসা করতেও অসুবিধা হচ্ছে না। শহরটা এখন অনেক সুন্দর।’

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ইউছুফ বলেন, ‘আগে রাস্তায় গাড়ি চালাইতে খুব কষ্ট হইতো। এখন আর কষ্ট হয় না। আগের মতো লোকবলের অভাবও নেই। ট্রাফিকরা ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।’ অটোরিকশাচালক মো. রুবেল বলেন, ‘আগে অটোরিকশা বা সিএনজির কোনো স্ট্যান্ড ছিল না। প্রশাসক এসে নতুন বাজার এলাকায় স্ট্যান্ড করে দিছেন। তাই আর আগের মতো যানজট হয় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা পৌরসভার প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান দৈনিক আজকের ভোলাকে বলেন, নতুন বাজার, সদর রোড ও যুগিরঘোল এলাকায় দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট সমাধানের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে ৩০ জন ভিডিপি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিয়মিত যানজট নিরসনে কাজ করছেন। এ ছাড়া নতুন বাজার এলাকায় পৌরসভার জায়গায় অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং সেখানে সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড করা হয়েছে। ফলে রাস্তার ওপরে যে কৃত্রিম যানজট তৈরি হতো, তা এখন নেই। পৌরবাসীর সহযোগিতা পেলে আরও উন্নত ভোলা পৌরসভা গড়ার আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সময়: ০:৪৬:৩৭   ১৫০ বার পঠিত  







পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

জেলা’র আরও খবর


খাল খননের দাবীতে ইলিশায় মানববন্ধন
চরফ্যাশনে অবৈধ সেচ পাম্পিংয়ের প্রভাবে অকার্যকর দেড় হাজার নলকূপ
ভোলার হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন
দুশ্চিন্তায় বোরহানউদ্দিনের কর্মহীন জেলেরা, সুবিধা বঞ্চিত ৬ হাজার ৭৩৮ জন
৪ লাখ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিল ড্রেজার: ছাড়া পেয়েই ফের বালু উত্তোলন শুরু
নৌ-প্রতিমন্ত্রীর এলাকায় লঞ্চঘাটে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, যাত্রী হয়রানির অভিযোগ
ভোলায় ৩ দিনেও মেলেনি জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তা ॥ চরম দুর্ভোগে জেলে পরিবার
লালমোহন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দপ্তর যেন ভূতের বাড়ি
ভোলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, তালিকা প্রকাশ
নিষেধাজ্ঞার সময় কিস্তি বন্ধের দাবি কর্মহীন ৩ লাখ জেলের



আর্কাইভ