
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার মেঘনা নদী থেকে অপহরণের ৩৪ ঘণ্টা পর এক লাখ ১৭ হাজার টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে জলদস্যুদের কাছ থেকে ছাড়া পেয়েছেন চার জেলে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝের চর এলাকার একটি চর থেকে তাদের উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
অপহৃত জেলেরা হলেন, বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের জয়া গ্রামের মহিউদ্দিন মাতাব্বর (৪০), একই উপজেলার টবগী ইউনিয়নের দালালপুর গ্রামের মো. সবুজ (২২), একই গ্রামের মো.বজলু মাঝি (৩৮) ও মো.শরীফ (৩০)।
এর আগে গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় একদল জলদস্যু ট্রলারযোগে এসে তাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।
জলদস্যুদের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া জেলে জেলে মহিউদ্দিন মাতাব্বর ও মো. শরীফ বলেন, রবিবার দিবাগত রাতে তারা চার জন জেলে মিলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করছিলেন। এ সময় ট্রলারযোগে একদল জলদস্যু এসে তাদের চোখ বেঁধে লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন একটি চরে নিয়ে যায়। পরে মুক্তিপণের টাকা চেয়ে তাদের মারধর করেন জলদস্যুরা। এ সময় তাদের কাছে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
পরবর্তীতে জলদস্যুরা জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা নেয়।
জেলেরা আরো বলেন, সোমবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে জলদস্যুরা তাদের পুনরায় ট্রলারে উঠিয়ে ট্রলার চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে নদীতে একটি অচেনা ¯িপডবোট দেখে জলদস্যুরা ভয়ে ট্রলারটি একটি চরের কাছে থামিয়ে লাফ দিলে তারাও লাফ দিয়ে রক্ষা পান। তবে জলদস্যুদের মধ্যে কাউকেই তারা চেনেন না।
বোরহানউদ্দিনের মির্জাকালু নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সনাতন চন্দ্র সরকার জানান, অপহরণের শিকার জেলেদের মোবাইল ট্রাকিং করে চরে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।
জলদস্যুরা পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলেরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং মামলা হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ০:৪২:৪৭ ১০১ বার পঠিত