
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলায় বিএনপির হেভিওয়েট দুই সংসদ সদস্য প্রার্থীর নিজের চেয়ে স্ত্রীদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং আয়ের পরিমান বেশি। তারা হলেন ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সাবেক এমপি, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনের সাবেক এমপি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের। এদের মধ্যে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী দিলারা হাফিজের পেশা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ও হাফিজ ইব্রাহিমের স্ত্রী মাফরুজা সুলতানার পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বচানে মনোনয়ন পত্রের সাথে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া যায়।
হলফনামায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেছেন, তার মোট সম্পদের পরিমান এক কোটি ৮৯ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫৯ টাকা। বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ২০ হাজার ৫১০টাকা। সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ ৬৮ লাখ ৯৮ হাজার ৭১১ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫৯টাকা, গাড়ীর দাম ২৬ লাখ টাকা, স্বর্ণের দাম ৬০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ৪০ হাজার টাকা, অকৃষি জমি ৮০ লাখ ৬হাজার ৮৯ টাকা। এছাড়া হলফনামায় আর কোনো সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বার্ষিক আয়ের মধ্যে বাড়ি ভাড়া থেকে ১৩ লাখ ৯১হাজার ৫৭৪ টাকা ও খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
হলফানামায় তাঁর স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দিলারা হাফিজের নামে স¤পদ দেখানো হয়েছে দুই কোটি ৬১ লাখ ৩৬ হাজার ১৫১ টাকা ও আয় দেখিয়েছেন ২১ লাখ ৮৬ হাজার ৫১৬টাকা। তবে আয়ের কোনো উৎস্য হলফনামায় উল্লেখ নেই। স্ত্রীর স¤পদের মধ্যে নগদ অর্থ ৫ লাখ ৮৪ হাজার ১৫১ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভূক্ত ও তালিকাভূক্ত নয় কো¤পানির শেয়ার ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত এক কোটি টাকা, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ও বিদেশী রেমিট্যান্স এক কোটি ৪৯ লাখ, অকৃষি জমি ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
৬ বারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২০১৮ সালের নির্বাচনী হলফনামার সাথে দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নে নিজ সম্পদের পরিমান দেখিয়েছেন এক কোটি ২৮ লাখ ৫৯ হাজার ৩৪২টাকা ও বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৫টাকা। আয়ের মধ্যে বাড়ি ভাড়া বাবদ ১০ লাখ ৭১ হাজার ৫৭টাকা, বীর বিক্রম খেতাবের সম্মানী ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, বয়স্কভাতা ১২ হাজার টাকা, ব্যাংক মুনাফা ৭ হাজার ৯৪৮টাকা। তবে স্ত্রীর স¤পদ ও আয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিলকৃত হলফনামায় দেখা গেছে, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের বার্ষিক আয় ৩লাখ ৪০ হাজার টাকা ও মোট স¤পদের পরিমান ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৪লাখ ১হাজার ৩১০ টাকা ও মোট স¤পদের পরিমান ৯০ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩হাজার ৮৬১টাকা। নিজ স¤পদের মধ্যে নগদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, স্বর্ণ, গাড়ী ও আসবাবপত্র ছাড়াও ২৭ হাজার টাকা মূল্যের ২৮শতাংশ কৃষি জমি, ৫লাখ টাকা মূল্যের ৫কাঠা অকৃষি জমি, ৬লাখ টাকা মূল্যের আবাসিক একটি দালান রয়েছে। স্ত্রীর নামে নগদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ও স্বর্ণ ছাড়াও ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ১০৮ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা-৩ আসন থেকে প্রথম ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে, ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র, ১৯৯৬ সাল ও ২০০১সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।
অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার মোট স¤পদের পরিমান ৬ কোটি ২৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৫২টাকা ও বার্ষিক আয় ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৯টাকা। স¤পদের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৯৫ লাখ ৯হাজার ৬০৬ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভূক্ত ও তালিকাভূক্ত নয় কো¤পানির শেয়ার ৫৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৪টাকা, ৪৫ লাখ টাকা দামের মোটরযান, স্বর্ণ ১২ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ১০ হাজার টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র ৫০ হাজার টাকা, যৌথ মূলধনী কো¤পানির শেয়ার ৫৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮৫টাকা, কৃষি জমি ২৫ লাখ ৩১ হাজার ২৫০টাকা, অকৃষি জমি ৯৪ লাখ ২১ হাজার ৩৫৯টাকা, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ৫৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
তার স্ত্রী মাফরুজা সুলতানার মোট স¤পদ ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬৬টাকা ও বার্ষিক আয় ৪৩ লাখ ৩১২টাকা। স¤পদের মধ্যে নগদ এক কোটি ২৪ লাখ ৭হাজার ১৩১টাকা, বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভূক্ত ও তালিকাভূক্ত নয় কো¤পানির শেয়ার ৯০ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৫টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা, স্বর্ণ ২০ হাজার টাকা, যৌথ মূলধনী কো¤পানির শেয়ার ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, অকৃষি জমি দুই কোটি ৯লাখ ৮৯ হাজার ৩৭৫ টাকা, আবাসিক ও বানিজ্যিক ভবন ৪৫ লাখ টাকা, চার কোটি ৫৫লাখ টাকা দামের বাড়ি রয়েছে।এদিকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিলকৃত হলফনামায় হাফিজ ইব্রাহিম নিজ নামে মোট স¤পদ দেখিয়েছেন ৬কোটি ৫২ লাখ ৫২ হাজার টাকা ও বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪ লাখ ২০হাজার টাকা। এর মধ্যে ঢাকা, গাজীপুর, কক্সবাজার ও ভোলার বোরহানউদ্দিন এবং দৌলতখান উপজেলায় ২২৭ দশমিক ২৯ শতাংশ জমি দেখিয়েছেন। সেই সময় স্ত্রীর মোট স¤পদ উল্লেখ করা হয়েছে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৯টাকা। তবে ২০১৮ সালের হলফনামায় স্ত্রীর আয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাফিজ ইব্রাহিম ২০০১সালে ভোলা-২ আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। এর পর ২০০৮ সালে আইনী জটিলতায় নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারেননি।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৮:৪১ ১১১ বার পঠিত