
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলা-১ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ’র বার্ষিক আয় ৪১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আয় সাত লাখ ৫২ হাজার ১০৭টাকা এবং আইন পেশা ও শিক্ষকতা থেকে আয় ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৫ টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমান ২কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। গত ৭ বছরে (২০১৮ সাল থেকে ২০২৫) তার আয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন ও সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুনের বেশী। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর আগে স্ত্রীর নামে কোন সম্পদ দেখাননি তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বচান উপলক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া যায়।
হলফনামায় পার্থ উল্লেখ করেছেন, তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ৭৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ৭১ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৮টাকা, বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভূক্ত ও তালিকাভূক্ত নয় কো¤পানির শেয়ার রয়েছে ১৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।
মোটরযান রয়েছে ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের। স্বর্ণ রয়েছে ১০০ তোলা। ব্যাংকে থাকা টাকার মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে নিজ নামে রয়েছে ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৬ টাকা, তার পরিচালিত বৃটিশ স্কুল অফ “ল” নামে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৯২টাকা, আন্দালিভ রহমান ফার্ম এন্ড ফিসারিজ নামে ব্রাক ব্যাংকে ৩৭ লাখ ৫০০টাকা, নিজ নামে ব্রাক ব্যাংকের দুইটি একাউন্টে ২৫ লাখ টাকা।
দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র মধ্যে একটি এন.পি.বি. রিভলবার ও একটি ২২ বোন রাইফেল রয়েছে। তার অস্থাবর সম্পদ অর্জনকালিন মূল্য দেখিয়েছেন ২কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার ১২ টাকা। আন্দালিভ রহমান পার্থর স্থাবর সম্পদের মধ্যে কোনো কৃষি জমি নেই। অকৃষি জমির মধ্যে নিজ নামে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ, যৌথ মালিকানায় ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। যৌথ মালিকানায় ঢাকায় তিনতলা একটি দালান ও তিনতলা একটি বাড়ি রয়েছে। তার নামে ও স্ত্রী-সন্তানদের নামে ব্যাংক অথবা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ নেই।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের আয়কর রিটার্নে আয় দেখিয়েছেন ৪১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২ টাকা ও রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমান ২ কোটি ২৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০টাকা। আয়কর দিয়েছেন ৮ লাখ ৭ হাজার ৪৩৬টাকা।
তার স্ত্রী শেখ সায়রা শারমিনের নামে বিগত হলফনামায় কোনো সম্পদ না দেখালেও এবার তার স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদ। এর মধ্যে নগদ ২৬ হাজার ২৯৫ টাকা ও ব্যাংকে ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৭০৫টাকা এবং স্বর্ণ রয়েছে ৬০ ভরি। বড় মেয়ে মাহাম সানজিদা রহমানের নামের ব্যাংকে রয়েছে ১লাখ ৩৬ হাজার ১৯৩ টাকা।
এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন পার্থ। সেখানে দাখিলকৃত হলফনামায় তার আয় দেখিয়েছেন ২১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৭০টাকা। সম্পদ দেখিয়েছেন নগদ ৩১ লাখ ০১ হাজার ১৯৬ টাকা, ব্যংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জামাকৃত ৪৩লাখ ২০ হাজার ৪৫৫টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভূক্ত নয় কো¤পানির শেয়ার ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫ টাকা মূল্যের একটি গাড়ী, ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৫ টাকা মূল্যের পুরাতন আসবাবপত্র। তবে স্ত্রী বা সন্তানদের নামে কোনো সম্পদ দেখাননি পার্থ। সে সময় তার নিজ মালিকাধীন ব্রিটিশ স্কুল অব “ল” এর শিক্ষকদের বেতন ভাতাদি বাবদ ১০ লাখ ৪২ হাজার ২৫৬ টাকার দায় রয়েছেন।
তবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনের চার দলীয় জোটের পার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। সে সময় হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০টাকা। এ বাইরে আর কোনো আয়ের কথা উল্লেখ করেনি তিনি। তার সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ২৬ লাখ ১৮ হাজার ৮৪টাকা, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৪টাকা, স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৪২ লাখ ৯১ হাজার টাকা, আসবাবপত্র রয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৭টাকা ও স্বর্ণ রয়েছে ১০০ তোলা।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা-১ আসনে বিএনপির চারদলীয় জোট থেকে ( ধানের শীষ প্রতীক) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষের প্রতিকে নির্বাচন করেছেন। তবে এবার নিজ দলের গরুর গাড়ি প্রতিকে ভোলা-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৭:৪০ ৬২ বার পঠিত