
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ২৮টি কেন্দ্রে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) একযোগে বিকাল ৩টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে তা চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যান্ত। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৩৬ জনকে বহিস্তার করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ২২৫ জন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে, ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৯জনকে আটক করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের সময় তাদের হাতেনাতে ধরা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, জেলায় মোট আবেদনকারির সংখ্যা ছিলো ১৫ হাজার ৬৩ জন। যাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১১ হাজার ৮৩৬ জন। জেলার সাত উপজেলায় মোট শূন্যপদের সংখ্যা ২৫৩টি।
পরীক্ষা সুন্দর সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রত্যেক কেন্দ্রে নিয়োজিত একজন ম্যাজিষ্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পাল করেন। এছাড়াও ১৪ টি ভিজিলেন্স টিম পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে ছিলেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, নকলমুক্ত পরিবেশে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কোখায় কোন অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৯জনকে আটক করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বনের সময় তাদের হাতেনাতে ধরা হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই ভোলায় একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করিয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চাকরিপ্রার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষা এলেই এসব চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং প্রশ্নফাঁস বা ফলাফল প্রভাবিত করার নামে লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয় বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও রহস্যজনক কারণে তা বারবার চাপা পড়ে যাচ্ছিল। সচেতন মহলের মতে, অভিযুক্তদের সম্পদের হিসাব যাচাই করলে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের নিয়োগ-বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। অন্যথায় মেধাবীরা বঞ্চিত হবে এবং সরকারি চাকরি ক্রমেই অর্থ ও তদবিরনির্ভর হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০৩:৫৬ ১৮৬ বার পঠিত